• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০৭ এএম;
স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কাটা ও বোতল দিয়ে আঘাত করায় স্বামী আপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে আপনের স্ত্রী শিমু আক্তার বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় স্বামী আপন মিয়া, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে এ মামলা করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের মধ্যপাড়ার ফজলু মিয়ার ছেলে আপন মিয়ার বিয়ে হয়। আপন মিয়া ২০২১ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেন। তিনি কক্সবাজার রামুতে কর্মরত। বর্তমানে রংপুরের সৈয়দপুরে ছয় মাসের ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানান, বিয়ের তিন মাস পর থেকে আপন ও শিমুর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। সম্প্রতি স্বামী আপন মিয়া মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য শিমুর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। তার চাহিদামতো এই টাকা দিতে না পাড়ায় স্ত্রী শিমুর ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন আপন। আপন ২১ মে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন।

গত শনিবার (২৩ মে) স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিমুকে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং মাথার চুল কেটে দেন। 

 

গত শুক্রবার (২৯ মে) আপন স্ত্রী শিমুকে নিয়ে উপজেলার ধেরুয়া এলাকার আনিশা জলকুটির রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে স্ত্রী শিমুর হাতে ও আঙুলে কাচের বোতল দিয়ে আঘাত করে আহত করে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন স্বামী। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় লতিফপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে শিমুকে রেখে আপন চলে আসে।

রাতে পরিবারের লোকজন শিমুকে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ৩০ মে শিমু আক্তার বাদী হয়ে স্বামী আপন, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে শুক্রবার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন।

 

নির্যাতিত গৃহবধূ শিমু আক্তার বলেন, আমার স্বামীর অন্য একজনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে। আমার সঙ্গে বিয়ের আগে ওই মেয়ে আমার স্বামী আপনের নির্দেশে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে উঠেছিল। এ ঘটনা আমার বিয়ের পরে জানতে পারি। আপন ওই মেয়েকেও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার আগের স্বামীকে ডিফোর্স দেওয়ায়। কিন্তু আপন তাকে বিয়ে না করে এই তথ্য গোপন করে আমাকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকে আমাকে অনেক মারধর করা হয়েছে। আমার দরিদ্র বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করে আমি তার সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার হোক।

লতিফপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, স্বামী আপন স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কেটে দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী অপরাধ করতে পারে, তাই বলে এমন অমানবিক নির্যাতন কাম্য নয়। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি। 

অভিযুক্ত স্বামী আপন মিয়া বলেন, স্ত্রী শিমুর সঙ্গে দেওহাটা এলাকার সাগর নামে এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কের কারণে আমার চার মাসের সন্তান নষ্ট করেছে শিমু। 

স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, শিমুর টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। ডাক্তারের পরামর্শে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ অবস্থায় তার বাবা-মার কাছে শিমুকে দিয়ে আসেন বলে জানান।   

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূ শিমু আক্তার তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন