• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

দেবীগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে অপহরণের চেষ্টা, বিশ্বজিৎসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:০৮ পিএম;
দেবীগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে অপহরণের চেষ্টা, বিশ্বজিৎসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মাহামুদুল ইসলাম জয়, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:

 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকায় এক তরুণীকে (১৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং তার মামিকে (২২) অপহরণ করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্বজিৎসহ ৭ জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তরুণী ও তার মামি। পথে অমরখানা এলাকায় অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধ করে। পরে তরুণীকে জোরপূর্বক একটি বাড়ির শয়নকক্ষে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সময়ে তার মামিকে একটি চার্জারভ্যানে তুলে করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
​এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নদীর পাড়ে ধর্ষণের চেষ্টাকালে চতুরতার আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী মামি। তিনি কৌশলে অভিযুক্তদের চোখে বালু নিক্ষেপ করে তাদের কবল থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি ঘটনাস্থলে ফিরে এসে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর দুই ভিকটিমই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদী মো. জয়ন উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন,"ঘটনার পরপরই আমি বিষয়টি আমাদের ইউনিয়নের বর্তমান জনপ্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাবেক মেম্বার রবিউল ইসলামকে জানাই। কিন্তু তারা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করেন এবং পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেন। পরে আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমি জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মূলত জনপ্রতিনিধিদের এমন ভূমিকার কারণেই চিকিৎসা ও থানায় অভিযোগ করতে আমাদের বিলম্ব হয়েছে।"

মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকার বলেন, "আমরা এজাহার পেয়েছি এবং ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
​এদিকে এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে পুরো শালডাঙ্গা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন