পঞ্চগড়ে হ্যান্ডকাফসহ ৪ মাদক আসামিকে ছিনতাই, পুলিশের সাড়াশি অভিযানে গ্রেফতার
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় জেলা শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান চলাকালে হ্যান্ডকাফসহ চার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার কিছু সময় পরেই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জেলা শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাতেই পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স জেলা শহরে মাদকবিরোধী অভিযানে নামে। অভিযান চলাকালে শহরের হাজী মার্কেটের একটি পরিত্যক্ত দোকান থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় ৪ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটকের পর আসামিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শের-ই-বাংলা পার্ক এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে আসামিদের গাড়িতে তোলার সময় ২০-২৫ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দল অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে হ্যান্ডকাফসহ ৪ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে টাস্কফোর্সের ৪ সদস্য আহত হন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হয়।
আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও ব্লকব্লাস্টার অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর কিছু সময় পরেই শহরের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছ থেকে কাটা হ্যান্ডকাফসহ চারজনকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুনরায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,
১. দিপু ইসলাম (৩৭), পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব, ২. জয়নাল (৪২), রাজনগর এলাকা, ৩. শাহেন শাহ (৩৬), রাজনগর এলাকা, ৪. হাসিবুর রহমান (২৫) পুরাতন ক্যাম্প এলাকা।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃত যুবদল নেতা দিপু ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাস্তা থেকে অন্যায়ভাবে ধরে আনা হয়েছে এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, "আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দান এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, "জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: