• ঢাকা
  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:২৭ পিএম;
নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগের ৯ দিন পর সিফাতুন নুর (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সিফাতুন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরিবারের দাবি, ওই রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিফাতুনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল। টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

সিফাতুন চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার। অভিযোগে তার মেয়ের শাশুড়িসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিফাতুনের বাবা মো. নুর দাবি করেন, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এমন ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন