আলফাডাঙ্গা পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধকে মারধর, বাড়িতে হামলা ভাংচুর
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধকে মারধর, বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ উপজেলা শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে ।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক বৃদ্ধকে মারধর করে গুরুতর আহত করা এবং বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে। ওই শ্রমিক নেতার নাম ইয়াদ শেখ (৪০)। তিনি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা।
আজ শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটার জুমার নামাজ শেষে আলফাডাঙ্গা নূরানী জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত বৃদ্ধের নাম মনোয়ার খান (৬৫)। তিনি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ার খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। তার স্ত্রী লিমা খান (২৭) ও দুই সন্তান গ্রামেই বসবাস করতেন। এ সময় আলফাডাঙ্গা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইয়াদ শেখ (৪০) এর সঙ্গে লিমা খানের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে মাসুদ পারভেজ তার স্ত্রীকে তালাক দেন।
পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মাসুদ পারভেজ সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর ইয়াদ শেখ তার সাবেক স্ত্রী লিমাকে আবার বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে মাসুদ পারভেজ অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে আলফাডাঙ্গা নূরানী জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইয়াদ শেখ তার সহযোগীদের নিয়ে মাসুদ পারভেজের বাবা মনোয়ার খানকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় অভিযুক্তরা মাসুদ পারভেজের বাড়িতেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
আহত মনোয়ার খানকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃদ্ধকে মারধরের এ ঘটনার ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বৃদ্ধকে এক ব্যাক্তি কিল-ঘুষি মারছেন।এসময় তার আশপাশে ৫/৭ জন যুবক থাকলেও তারা ঠেকান নি। পরে পাশের এক ব্যাক্তি কিল-ঘুষি দেওয়া ব্যাক্তিকে ধরে ফেলেন এবং বৃদ্ধকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিজেকে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করে ইয়াদ শেখ বলেন, একটা হালকা পাতলা মারামারি হয়েছে, পারিবারিক কারনে, তবে এর কারণ বলা যাবে না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, এক সময়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন ইয়াদ মিয়া। পরবর্তিতে ওই কমিটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত বলেন, পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- আলফাডাঙ্গা* পরকীয়ার,জেরে
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: