আলফাডাঙ্গায় জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে নামজারী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমির দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে নামজারী করার প্রতিবাদে সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার বেলা ১১টায় আলফাডাঙ্গা ইলেকট্রিক ফেডারেশন এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মোঃ শহিদুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম জানায়,
প্রায় ২ মাস পূর্বে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার বাবা মোঃ অলিয়ার রহমান তাঁর মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জমি আমাকে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে লিখে দেন। উক্ত জমির খতিয়ান নম্বর ৩৫১ এবং দাগ নম্বর ২৫৮। পরবর্তীতে আমি গত ০৬-০৫-২০২৬ তারিখে আমার নামে নামজারির জন্য আবেদন করি, যার আবেদন নম্বর ৭৬৪০। শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল ১৩-০৫-২০২৬। শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ দিন কোনো অগ্রগতি না দেখে আমি আলফাডাঙ্গা ভূমি অফিসে খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারি যে, আমার আবেদনকৃত জমি ও আমার বসত বাড়ি ইতোমধ্যে অন্য একজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে।বিষয়টি জানতে চাইলে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমাকে জানান যে, শাম কাজী তার নামে নামজারি করিয়েছেন।
আমি বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে ভূমি অফিস আমাকে কম্পিউটারে দলিলের কপি দেখান। সেখানে যে ছবি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমার বাবার নয় বলে আমি নিশ্চিত হই। এরপর আমি তাৎক্ষণিকভাবে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ৭৯১ নম্বর দলিল তল্লাশি করি। সেখানে দেখা যায়, দাতা হিসেবে কেবল মজিবর রহমান ও শামেলা বেগমের নাম রয়েছে। আমার বাবা অলিয়ার রহমানের কোনো জমি হস্তান্তর বা দাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করি। তিনি দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন যে, অন্যের ছবি ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে শাম কাজী অবৈধভাবে নামজারি করে নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এসিল্যান্ড মহোদয় শাম কাজীর নামে করা নামজারি বাতিল করে দেন এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। নামজারি বাতিল হওয়ার ৩ দিন অতি-বাহিত হলেও অভিযুক্ত শাম কাজীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারকারীসহ এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক নাম জারি বাতিল করেছি। এ জালিয়াতির সাথে জড়িতদের আইনি ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: