• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. সোসাল মিডিয়া

শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তা আজিজ,চলে গেল চাকরি; অঝোরে কাঁদলো গ্রামবাসী


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৩০ পিএম;
শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তা আজিজ,চলে গেল চাকরি; অঝোরে কাঁদলো গ্রামবাসী

বাবা মারা যাবার পর সংসারের হাল ধরেন ভাই। ঢাকা শহরে প্যাডেল রিকসা চালিয়ে দেশের সর্ববৃহত বিদ্যাপিঠ, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত শিক্ষাঙ্গন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন ছোট ভাই আজিজকে। স্বপ্ন দেখেছেন, আর আশায় বুক বেঁধেছেন ভাইকে নিয়ে। একদিন ভাই তাঁর পুলিশের বড় কর্মকর্তা হবেন, দেশ মাতৃকার সেবা করবেন; বুকে আত্মতৃপ্তির  মধুময় ব্যঞ্জনা নিয়ে রিকসার হুট খুলে একদিন শহরময় ঘুড়বে ভাইকে নিয়ে। ঠিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল বড় ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণের বাসনাগুলো। ৪৩তম বিসিএস দিয়ে প্রথমবারেই সুপারিশ প্রাপ্ত হলেন পুলিশে, যথারীতি ট্রেনিং শুরু হলো। এই তো আর কয়টা দিন, ট্রেনিং শেষ হলেই মুক্ত বিহঙ্গের মত টানা ঝাপটিয়ে উড়বে দুই ভাই মিলে। স্বপ্ন পূরণ হবে! বিধি বাম!!  ট্রেনিং শেষে সবাই যখন নিজ নিজ পোস্টিং এর কথা জানলো ঠিক তখনই আজিজ আর তাঁর তিন বন্ধুকে জানানো হলো নিষ্ঠুর-নির্মম-দু:সসহ বেদনার সেই সংবাদ। চাকরী থেকে অব্যাহতির ঘোষনা। নিমিষেই মিষে গেল সকল আশার প্রদীপ। মুহূর্তে বাতাসের মাধ্যমে সে দুঃসংবাদটা পৌঁছে গেল আজিজের গ্রামে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো গ্রামবাসী, আত্মীয়-পরিজন-স্বজন। হতদরিদ্র-মেধাবী আজিজ আর তাঁর তিন বন্ধুর জীবনে নেমে এলো অমানিশার নিকষ কালো অন্ধকার। সেই করুন কাহিনীর এক নির্মম সত্য জানবো এক ভাইয়ের ফেসবুক স্টাটাস থেকে :

বিসিএস(পুলিশ) ক্যাডারের চারজন কর্মকর্তাকে গত বুধবার (২৫ মার্চ) চাকরি থেকে অপসারণ করেছে সরকার। 
এর মধ্যে রয়েছেন শেরপুরের একটি গ্রাম থেকে উঠে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক ছাত্র মোঃ আব্দুল আজিজ (সারতাজ আজিজ)। অপসারণের ঘটনায় তার স্কুলজীবনের বন্ধু গাজী এমএ মান্নান মন্ডলের একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে,যেখানে তিনি জানিয়েছেন,আজিজের অপসারণে তার গ্রামের মানুষের চোখে অশ্রু নেমেছে।

আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এই পোস্ট দেন মান্নান মন্ডল।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

সারতাজ আজিজ একেবারে প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসেছিল উল্লেখ করে মান্নান মন্ডল লিখেছেন, আমরা দুজন একসাথে ইন্টারমিডিয়েট থেকে শুরু করে ভার্সিটি পর্যন্ত পড়েছি।ইন্টারমিডিয়েট ফেইল করে যখন পড়াশোনা একেবারে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম,তখন এই আজিজ আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পর্যন্ত।

আজিজের মেধার বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন,অদম্য মেধাবী আমার বন্ধু এসএসসি ও ইন্টারমিডিয়েটে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।১৫-১৬ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে ৩২তম, ‘ঘ’ ইউনিটে ১৪তম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় হয়েছিল। আর্টসের ছাত্র হয়েও কৃতিত্বের সাথে মার্কেটিংয়ে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেন। আজিজ তার প্রথম বিসিএস (৪৩তম) থেকেই পুলিশ ক্যাডার পেয়ে যায়।যার কারণে বেশ কয়েকটি ৯ম/১০ম গ্রেডের চাকরির ভাইভাতে সে উপস্থিত হয়নি।

সূর্যসেন হলে যারা ১৫-১৬ সেশন এবং ইমিডিয়েট জুনিয়র ১৬-১৭ সেশন বা তার নিচে যারা ছিল,তাদের কেউ বলতে পারবে না আজিজ কখনো কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।

বন্ধুর পরিবারের সংগ্রামী জীবনের তথ্য তুলে ধরে মান্নান মন্ডল লিখেছেন,আজিজ যে কতটা সংগ্রাম করে পড়াশোনা করেছে,তা আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর তার ভাই তাকে আজ পর্যন্ত আগলে রেখেছেন। তার ভাই অন্যের জমিতে কাজ করে, রাস্তায় কনস্ট্রাকশনের কাজ করে,এমনকি ঢাকা শহরে প্যাডেল রিকশা চালিয়ে আজিজকে পড়িয়েছেন।তার ভাই সারাদিন রিকশা চালিয়ে সন্ধ্যায় সূর্যসেন ক্যাফেটেরিয়ার সামনে রিকশা রেখে দুই ভাই একসাথে রাতের খাবার খেতেন।

তিনি আরও লিখেছেন,৪৩তম বিসিএসে জয়েন করে এক বছর পুলিশ একাডেমিতে ট্রেনিং করার পর যেদিন সবাই জানতে পারল তাদের পরবর্তী পোস্টিং কোথায়, সেখানে আমার বন্ধু জানতে পারল তাকে অপসারণ  করা হয়েছে।অপসারণ করার পর আজিজকে সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজিজ,আমি তো তোমাকে কিছুই দিতে পারলাম না, তবুও বলো তুমি আমার কাছে কী চাও?’ ​
আজিজ উত্তর দিল,‘স্যার, আমার ব্যাচমেটদের ডিটেনশন যেন মাফ করে সবাইকে একসাথে পাসিং দেওয়া হয়।’

আপনি কি কখনো দেখেছেন কারও চাকরি চলে যাওয়াতে গ্রামের সবাইকে কাঁদতে— এমন প্রশ্ন রেখে মান্নান মন্ডল লেখেন,গতকাল আমি দেখেছি আজিজের গ্রামের মানুষের চোখে পানি। ​
আজিজদের আইজিপি বেনজীর বা ডিবি হারুন বানানোর পুরো দায় রাষ্ট্রযন্ত্রের!
এটাই কি তাহলে নতুন বাংলাদেশে মেধাবীদের মূল্যায়ন? 
কোটা না মেধা? 
দলীয়করণ,নাকি কেবলই দলীয়করণ?

বিঃদ্রঃদেড় বছর পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকলেই কি সে ছাত্রলীগ?
তাহলে এই দেড় বছর তো জমাত শিবির ব্যতিত কেউ হলে থাকতে পারছে না এমনকি মব ভায়োলেন্সের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
এটা নিশ্চয়ই মনে রাখবে বাংলাদেশ!!

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন