• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. দূর্ঘটনা

পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৪৯ এএম;
পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মেকে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসকে সদস্যসচিব করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-সহকারী পরিচালক।

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, বাস নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩৫/৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে পদ্মার পাড়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পদ্মা পাড়ের আকাশ বাতাস। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ির জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ :

পদ্মায় বাসডুবি
টেনে তোলা হয়েছে বাস, বের হচ্ছে একের পর এক মরদেহ

টেনে তোলা হয়েছে বাস, বের হচ্ছে একের পর এক মরদেহ। 
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পড়ে যাওয়া বাস টেনে তোলা হয়েছে। বাস থেকে সর্বশেষ চারনারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে বাসটির সামনের অংশ টেনে তোলা হয়েছে। এ সময় আরও দুইজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট চার জনের মরদেহ ও এক নারীকে জীবন্ত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো যাবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত পৌনে বারটার দিকে নদীর পানির নিচে থাকা বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হয়। এসময় একের পর এক মরদেহ বের করতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে। প্রাথমিকভাবে আরও দুইজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পদ্মার পাড়ে ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও জামাই কাজী সাইফ আহমেদের খোঁজে এসেছেন রোকন। তিনি বলেন, আমার বন্ধুর ছোট বোন ও তার জামাই আজকে সাড়ে ৩টার বাসে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনে ঢাকায় যাচ্ছিল। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলোদিয়ার পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। আমরা সাড়ে পাঁচটার দিকে সংবাদ পাওয়ার পর দৌলোদিয়া ঘাটে এসেছি। কিন্তু আমার ছোট বোন ও তার জামাইয়ের এখনও সন্ধান পাইনি। তাদের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি। 
শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে সন্তান, মেয়ে সন্তান, ভাগনি ও ভাগনির ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও আমার সাত বছরের ছেলে সন্তান ও এগারো বছর বয়সের ভাগনে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আসলেও এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করেনি। আমার ছেলে ও ভাগনেতো আর নেই, এখন তাদের মরদেহ আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পানিতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও জানুন :

৩৬ জনের মরদেহ পানির নিচে থাকতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া বাসে অন্তত ৩৬ জনের মরদেহ থাকবে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ারসার্ভিস। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তিনজনকে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে দুজনের মরদেহ ও একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি ও দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাসে ৩৬ জনের মতো যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়েছে।এদিকে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জানিয়েছেন, ফেরিঘাট থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাসে থাকা অন্য যাত্রীদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।


বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পানিতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন