পটুয়াখালীর খলিশাখালীর সংঘর্ষ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
পটুয়াখালীর খলিশাখালীর সংঘর্ষ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
‘পরিস্থিতি শান্ত করতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম’: হাবিব মাস্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ২ নম্বর বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি সংঘর্ষের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান হাবিব মাস্টার। তিনি দাবি করেছেন, ওই সংঘর্ষ বা হাতাহাতির ঘটনার সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না; বরং হট্টগোল শুনে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করতেই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
এক লিখিত প্রতিবাদলিপিতে হাবিব মাস্টার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, খলিশাখালী ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক খানের একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট শেয়ার করেন বদরপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের কর্মী নাসির উদ্দিন হাওলাদার।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উক্ত পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ফারুক খান, বদরপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল খান ও শহিদুল খান লাউকোটি থেকে ফেরার পথে ইউনুস হাওলাদারের বাড়ির সামনে নাসির উদ্দিন হাওলাদারকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর খলিশাখালী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুর বাড়ির সামনে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ফারুক খান, রুবেল খান ও শহিদুল খান পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই সংঘর্ষে জড়ান।
হাবিব মাস্টার জানান, দ্বিতীয় ঘটনার সময় খলিশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা চলছিল, যেখানে শত শত দর্শক উপস্থিত ছিলেন। খেলার মাঠ থেকে হট্টগোল ও চিৎকার শুনে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শকদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর তিনি নিজ কাজে স্থান ত্যাগ করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সামাজিক ও মীমাংসামূলক ভূমিকাকে বিকৃত করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঘটনার সময় উপস্থিত শত শত এলাকাবাসী তাঁর নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যক্ষদর্শী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাবিব মাস্টার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য ইউনিয়নবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “এলাকায় কোনো রাজনৈতিক হিংসা বা বিদ্বেষ নয়, বরং শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। বদরপুর ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: