• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ আগষ্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

একজন শিক্ষকের কথা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:১৪ পিএম;
একজন শিক্ষকের কথা

সুবর্ণা রায় লিপা'র ওয়াল থেকে :

 

মা সমাবেশে আমি কথা বলা শুরু করার দুই এক মিনিট পর পিছনের দিকে বসা একজন অভিভাবকের সঙ্গে থাকা বছর চারেক বয়সী শিশুটি কেঁদে উঠল। শিশুটির মা কান্না থামানোর জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন, তবে আমি কথা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। 

          কিছুক্ষণ পর শিশুটির পাশে বসা আরেকজন অভিভাবক চরম বিরক্তি নিয়ে শিশুটিকে এবং তার মাকে বেশ ভালোভাবেই বকা দিলেন। সেই অভিভাবককে শান্ত করে কথা বলার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলাম, “আপনাদের কাছে একজনের কান্না যদি এতটা অস্বস্তিকর হয়, তাহলে একজন শিক্ষক কীভাবে প্রতিদিন অগণিত শিক্ষার্থীর কান্না সহ্য করেন?” আমার প্রশ্ন শুনে উপস্থিত প্রায় সবাই মুখ লুকিয়ে হাসলেন। হাসির আড়ালেই অবশ্য প্রশ্নটির উত্তর হারিয়ে গেল।

          একজন শিশুর কয়েক মিনিটের কান্না যেখানে অভিভাবকদেরই অসহ্য মনে হয়, সেখানে একজন শিক্ষককে প্রতিদিন অগণিত শিক্ষার্থীর কান্না, আবদার, ঝগড়া, অভিমান আর দুষ্টুমি সামলে পাঠদান করতে হয়। একটি শিশু মনোযোগ না দিলে তাকে সামলাতে হয়, দুজনের ঝগড়া হলে মীমাংসা করতে হয়, কেউ কাঁদলে তাকে শান্ত করতে হয়, কেউ অসুস্থ হলে খেয়াল রাখতে হয়। এর মধ্যেই নির্ধারিত পাঠ শেষ করতে হয়, শেখাতে হয়, মূল্যায়ন করতে হয় এবং প্রতিটি শিশুর দিকে আলাদা করে নজর দিতে হয়।

             এসব চ্যালেঞ্জ সামলে প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে থেকে পাঠদান করাটাই হয়তো শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অদৃশ্য শ্রম। এই শ্রমের কোনো দৃশ্যমান হিসাব নেই, কোনো প্রতিবেদনে এর পরিমাণ লেখা থাকে না। শ্রেণিকক্ষের বাইরে থেকে এই শ্রমের গভীরতা তাই অভিভাবক, কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী কিংবা সাংবাদিক কেউই পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেন না। বাইরে থেকে শিক্ষককে শুধু দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, কিন্তু সেই দাঁড়িয়ে থাকার ভেতরে প্রতিদিন কত শিক্ষার্থীর কান্না, আবদার, অভিমান, অস্থিরতা আর শিক্ষকের কতটা ধৈর্য জমা আছে, তার হিসাব কেউ রাখে না।
লিখেছেন: রাজেশ মজুদদার 
সহকারী শিক্ষক। 
এনায়েতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 
ফেনী।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন