পটুয়াখালীতে জোছনা উৎসব: পুথিপাঠ ও লোকগানে ফিরল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী রাত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
নাগরিক জীবনের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ভুলে পূর্ণিমার জোছনা আর ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলোয় পুথিপাঠ, জারি-সারি, ভাটিয়ালি গান ও পিঠা পুলির ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছিল পটুয়াখালী। এক রাতের জন্য হলেও পটুয়াখালীর মানুষ ফিরে গিয়েছিলেন হারিয়ে যাওয়া সেই চেনা গ্রামবাংলার আবহমান চিত্রে।
শনিবার রাতে শহরের কালিকাপুর এলাকায় ‘দখিণের কবিয়াল’ নামক একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী ‘জোছনা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়।
আকাশজোড়া পূর্ণিমার আলো আর ল্যাম্পের স্নিগ্ধ আলোয় বসে পুথিপাঠের আসর। এই পরিবেশ পুরো এলাকায় এক নস্টালজিক বা আবেগঘন আবেশ তৈরি করে। শহুরে ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে উৎসবে অংশ নেওয়া সব বয়সি মানুষ হারিয়ে যান কয়েক দশক আগের গ্রামবাংলার চিরচেনা শেকড়ে।
আয়োজনে পুথিপাঠের পাশাপাশি ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সুবাস ছড়ায়।
শুধু গান বা পুথিপাঠেই নয়, অতিথি আপ্যায়নেও বজায় ছিল দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। উৎসবে আগতদের ঐতিহ্যবাহী বিছকি ও মুইট্টা পিঠাসহ নানা ধরনের দেশীয় পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। জোছনার স্নিগ্ধ আলো, লোকগানের সুর আর পিঠার সুবাস মিলে তৈরি হয় এক ভিন্ন মাত্রা।
উৎসবে অংশ নেওয়া অতিথি ও সুধীজন এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, অপসংস্কৃতির ভিড়ে লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটাতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
‘দখিণের কবিয়াল’-এর সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, “নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে প্রকৃতিকে উপভোগ করা এবং মানুষকে আমাদের নিজস্ব শেকড়ের সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
উল্লেখ্য, ‘দখিণের কবিয়াল’ সংগঠনটি কেবল জোছনা উৎসবই নয়, বরং নিয়মিতভাবে নাইওর উৎসব, নবান্ন উৎসব, বর্ষা উৎসবসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক নানা বর্ণিল আয়োজন করে আসছে।
সংস্কৃতিপ্রেমীদের মতে, নগরজীবনের ঘূর্ণাবর্তে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ধারণ করাতে এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে একদিকে যেমন আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটবে, অন্যদিকে আমাদের লোকসংস্কৃতিও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: