• ঢাকা
  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন: বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:০৮ পিএম;
ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন: বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক (ছাত্রদল নেতা) নামে এক তরুণকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর নির্মম মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) সদস্য পরিচয় দিয়ে মেহেদী হাসান ফারুককে একটি মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এ সময় তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। 
পরবর্তীতে তাকে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পূর্ব পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী থাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই অপহরণ ও মারধরের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ‘কালবেলা’কে জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি জানতে পারেন যে ডিবি পরিচয়ে তার সহযোদ্ধা ফারুককে তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর বিভিন্ন স্থানে রাতভর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত একটার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
 তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মারধরের বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে সম্পূর্ণভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

অন্য অভিযুক্ত মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনীত সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকেও দেখা গেছে।

এদিকে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি প্রাথমিকভাবে অবগত ছিলাম না, আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখলাম। তাছাড়া ১৭ সেপ্টেম্বর আমি পারিবারিক কাজে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলাম। তবে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রকৃত ঘটনা, 
জড়িতদের আসল পরিচয় এবং ডিবি পরিচয় ব্যবহারের রহস্য উন্মোচিত হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন