• ঢাকা
  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

চাঁদাবাজির মামলায় বাউফলের দুই সাংবাদিক কারাগারে, বাদীর সন্তুষ্টি ও ন্যায়বিচারের আশা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০০ পিএম;
চাঁদাবাজির মামলায় বাউফলের দুই সাংবাদিক কারাগারে, বাদীর সন্তুষ্টি ও ন্যায়বিচারের আশা

পটুয়াখালী প্রতিবেদকঃ

 

পটুয়াখালীর বাউফলে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির মামলায় দুই সাংবাদিকের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো দুই অভিযুক্ত হলেন—বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এনামুল হক এনা (৩৫) এবং দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াজুল ইসলাম (৩৭)।


আদালত সূত্রে জানা যায়, মিসকেস নম্বর ১১৮৯/২৬-এর শুনানিতে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তাঁরা ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হন। উভয় পক্ষের আইনজীবীর দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনামুল হক ও মো. রিয়াজুল ইসলাম বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদী রতন মন্ডলের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখান এবং ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক দোকানদারের কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। পরদিন আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে এক মুসলিম তরুণী প্রেমের সম্পর্কে ঘর ছেড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তাঁদের আট মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মূলত এই পুরোনো ঘটনাকে পুঁজি করে এবং আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা ওই পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন।


এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী রতন মন্ডল বাদী হয়ে গত ২৮ জুলাই বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এনামুল হক ও মো. রিয়াজুল ইসলাম ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়।

আদালতের আজকের আদেশের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী রতন মন্ডল বলেন, “আমি শুরু থেকেই ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট।”

রোববার আদালতের আদেশের পর পরই পুলিশি নিরাপত্তায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন