রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ড. সিতি হাসমাহকে দাফন
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
ঐতিহাসিক এই শেষ বিদায়ের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন শোকসন্তপ্ত স্বামী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ, তাদের সন্তান ও পরিজনরা। এর আগে সেরি কেমবাঙ্গানের আস-শরিফ মসজিদে আসরের নামাজের পর মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পারিবারিক সদস্য ছাড়াও হাজারো সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন।
জানাজা শেষে সিতি হাসমাহর মরদেহ মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের যৌথ সামরিক প্রটোকলে পুসারা নেগারায় নিয়ে যাওয়া হয়। সশস্ত্র বাহিনীর আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মরদেহ বহনের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে দাফনস্থলে পুত্রা মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম ড. মুহাম্মদ জাকুয়া রদজালি তালকিন পাঠ পরিচালনা করেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মরহুমার পরিবারের হাতে মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা ‘জালুর গেমিলাং’ তুলে দেন সরকারি অনুষ্ঠান কমিটির চেয়ারম্যান দাতুক আবদ শোকর মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা দেশের জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ খাতে সিতি হাসমাহর যুগান্তকারী অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন সিতি হাসমাহ। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশের প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম গভীর শোক জানান এবং অবিলম্বে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্নের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের প্রধান সচিব ও প্রতিরক্ষা প্রধান সার্বিক ব্যবস্থার তদারকি করেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্মৃতিচারণ করে বলেন, সিতি হাসমাহর মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব, অকৃত্রিম ব্যক্তিত্ব ও জাতির প্রতি সেবা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সিতি হাসমাহ ছিলেন এক পথপ্রদর্শক রূপকার। তিনি তৎকালীন কেদাহ রাজ্যের প্রথম মালয় নারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে সেবা দিয়েছেন। মাহাথির মোহাম্মদের সাত দশকের দীর্ঘ দাম্পত্য ও রাজনৈতিক জীবনের সার্বনিক সঙ্গী হিসেবে তিনি মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় তাদের পরিচয় এবং দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যে তারা সাত সন্তানের জনক-জননি হন।
তুন ড. সিতি হাসমাহর বিদায়ে সমগ্র মালয়েশিয়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মধ্য দিয়ে বীরের বেশে বিদায় জানানো হলো আধুনিক মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম রূপকারকে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: