• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. আর্ন্তজাতিক

১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভায় পাঁচজনই নারী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর চমক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:১৯ পিএম;
১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভায় পাঁচজনই নারী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর চমক

নেপালের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ। রাষ্ট্রীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার কথা দীর্ঘ দুই দশক ধরে আলোচিত হলেও এই প্রথমবারের মতো দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বালেন শাহ তার ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভায় পাঁচজন নারী সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা নেপালের ইতিহাসে এক বিরল নজির। 

গত শুক্রবার কাঠমান্ডুর ‘শীতল নিবাস’ রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের উপস্থিতিতে এই নারী মন্ত্রীরা তাদের পদ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেন।

নতুন এই মন্ত্রিসভায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সোবিতা গৌতম। নারী, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সীতা বাদি। প্রতিভা রাওয়ালকে কেন্দ্রীয় বিষয় ও সাধারণ প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গীতা চৌধুরী কৃষি ও পশুপাখি উন্নয়ন এবং নিশা মেহতা স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের ভার পেয়েছেন। 

ইতঃপূর্বে ২০২২ সালে ২৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৬ শতাংশ বা ৬ জন নারী সদস্য থাকলেও ৩৩ শতাংশের কোটা পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ২০১৭ সালে শের বাহাদুর দেউবার বিশাল মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ এবং ২০১১ সালে বাবুরাম ভট্টরাইয়ের সময়ে তা ছিল ২৪ শতাংশ। ফেডারেল পার্লামেন্টে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মন্ত্রিসভার ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক ছিল না, যা প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ স্বেচ্ছায় কার্যকর করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

শপথ নেওয়া নারী মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বৈচিত্র্যময় পেশা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। খাস আর্য, দলিত, মাধেসি এবং থারু সম্প্রদায়ের এই নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল। 

প্রতিভা রাওয়াল রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ এক দশক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সীতা বাদি তার সম্প্রদায়ের প্রথম নারী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য কাজ করছেন। আইনমন্ত্রী সোবিতা গৌতম একজন আইন বিশেষজ্ঞ এবং নিশা মেহতা পেশায় একজন নার্স ও অধ্যাপক। অন্যদিকে, থারু সম্প্রদায় থেকে আসা প্রথম কেন্দ্রীয় নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গীতা চৌধুরী। 

তরুণ প্রজন্মের এই প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নেপালের শাসনব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন