অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও! গ্রেপ্তার ২
চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের এ বিপুল অর্থ ভল্ট থেকে সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় গ্রেপ্তার দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়ে টাকার ঘাটতি
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে থাকা টাকার হিসাব মিলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে ভল্টের হিসাব, ব্যাংকের বিভিন্ন রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় কামরুল হোসেন ভল্ট থেকে ওই অর্থ সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মতো বিপুল অর্থের ঘাটতি এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব-নিকাশ ও তদারকিতে কীভাবে ধরা পড়ল না।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিদিনের লেনদেন শেষে ক্যাশ ও ভল্টের অর্থের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি দীর্ঘ সময় ধরে অজানা থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকের এজাহারে বলা হয়েছে, ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে কোনো এক সময়ে অর্থের এই ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় আসামির পরিবারের দাবি, ‘আমার ছেলে ব্যাংকের কেউ নয়।’
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, তার ছেলে অগ্রণী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, এমনকি লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
আজিম উল্লাহর দাবি, তার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে তার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক রয়েছেন। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা বা কত টাকা তা পরিষ্কার করা হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা ব্যাংকে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে গেলে তার ছেলে জাফরুল্লাহ তানভীর ও ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল তথ্যও জব্দ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অর্থের ঘাটতির প্রকৃত কারণ, টাকা সরানোর সময়কাল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / নিজস্ব প্রতিবেদক
- বিষয়:
- চট্টগ্রাম
- অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
- টাকা
- আসামি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: