এক শতাংশের দাবিতে অবরুদ্ধ পিডি:পবিপ্রবিতে উন্নয়ন রাজনীতির মুখোশ উন্মোচিত,উত্তেজনায় ক্যাম্পাস
নজরুল ইসলাম আলীম:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক দাবি এবং ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. অলিউল ইসলামকে তার নিজ কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি গভীরতর সংকটের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্ত হন পিডি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে একদল কর্মী চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এক শতাংশ হারে অর্থ দাবি করে, যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তাকে কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, নিম্নমানের কাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো চাঁদাবাজি নয়, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ।
এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে সত্যতা যাচাই যেমন জরুরি, তেমনি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘর্ষে পরিণত হচ্ছে?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উন্নয়ন বাজেট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের “পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি” নিয়ে অভিযোগও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঠিকাদারি, সরবরাহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব খাটানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা শিক্ষা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা না গেলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নয়; বরং এটি বৃহত্তর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন, যেখানে উন্নয়ন, রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। এই সমীকরণ ভাঙতে হলে প্রয়োজন কঠোর জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান।পবিপ্রবির এই ঘটনা তাই একটি সতর্কবার্তা—উন্নয়নের নামে যদি স্বচ্ছতা হারিয়ে যায়, তবে তা শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ও নৈতিকতার ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
- বিষয়:
- একশতাংশের* দাবিতে,অবরুদ্ধ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: