• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. বিচিত্র সংবাদ

সংস্কারের অভাবে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ।


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৫ পিএম;
সংস্কারের অভাবে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ

লিটু দেবনাথ,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

 

সংস্কারের ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে হুমকির মুখে আনুমানিক ৫’শ বছরের পুরানো প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ। 
আনুমানিক ৫’শ বছর পূর্বে নির্মিত ঐতিহাসিক এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদটি সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। 
জনশ্রতি আছে ইলিয়াছ শাহী বংশের রুকনদ্দিন বরবক শাহের শাসনামলে ১৪৬৫ সালে নির্মিত হয় ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ। উজিয়ল খান নামে এক মিস্ত্রী মসজিদটির নির্মান কাজ করেন। 
মসজিদের গায়ে প্রাপ্ত একটি শিলালিপি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহের শাসনামলে তার মন্ত্রী খান-ই-আজম উজায়ের খান ৮৭০ হিজরিতে (১৪৬৫ থেকে ১৪৬৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) এ মসজিদ নির্মাণ করেন।
এলাকাটি তখন স্থানীয়দের দ্বারা মসজিদবাড়ি বা মসজিদবাড়িয়া নামে পরিচিত হয় এবং পরে মজিদবাড়িয়ায় পরিণত হয়। যদিও কেউ কেউ দাবি করেন মজিদ নামে স্থানীয় একজন চেয়ারম্যানের নামে মসজিদের নামকরণ হয়েছে। 

মসজিদে তিনটি দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য খচিত মেহরব, পূর্বদিকে তিনটি খিলান পথ এবং ছয়টি আট কোনা মিনার সদৃশ পিলার রয়েছে। বিশাল একটি গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি কোন রড-সিমেন্ট ছাড়াই চুন-সুরকি ও পোড়ামাটির ফলক দিয়ে নির্মান করা হয়েছে। 
মসজিদের ভিতর দিকে রয়েছে নানান কারুকার্য খচিত মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে দরজা-জানালার কপাট ও পিলারগুলোর অস্তিত্ব ধ্বংসের শেষ পর্যায় 
পৌঁছেছে।  

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও কোনো দৃশ্যমান সংস্কার নেই। এটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি হারিয়ে ফেলব।'
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মসজিদটি সংস্কার করে এর আদি রূপ ফিরিয়ে আনা হোক। তারা মনে করেন,  এই মসজিদটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং এ অঞ্চলে মুসলিম শাসনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মসজিদ-সংলগ্ন একটি বড় দিঘি রয়েছে। তারা সেখানে ওজু ও গোসল করেন। তারা মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন । 
মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন পরগনার ইয়াকিন শাহ ও কালাশাহ। মসজিদের দক্ষিণ পূর্ব পাশেই রয়েছে আরো দুটি কবর।
 
মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মসজিদে এখনও প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়। রমজান মাস জুড়ে মুসল্লিরা তারাবির নামাজ আদায় করেন। এখানে দুই ঈদে ঈদের নামাজ 
অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন চত্বরে প্রতি বছর বার্ষিক ওয়াজ মহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াজ মাহফিলে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে 
জমজমাট হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। 
মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও সংস্কারের অভাবে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে ধ্বংসাবশেষে পরিনত হচ্ছে। মসজিদটি দ্রত সংস্কারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে মুসলিম শাসনের ইতিহাস, 
মুসলমানদের অবদান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার দৃষ্টি দিবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন