• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অপরাধ

খানসামায় একই পরিবারের বিরুদ্ধে সীমাহীন অভিযোগ, নিরব প্রশাসন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪১ পিএম;
খানসামায় একই পরিবারের বিরুদ্ধে সীমাহীন অভিযোগ, নিরব প্রশাসন

মো: জসিম উদ্দিন :

 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখল, ফসল নষ্ট, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর (শাহপাড়া) গ্রামের মোঃ ফজলে রহমান এবং তার দুই ছেলে মাহাবুর রহমান ও মাসুদ রহমানের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ধারাবাহিক অভিযোগ
১. রাতের হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংস:
প্রথম অভিযোগে প্রফেসর ডা. মোঃ আফজাল হোসেন (ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজে কর্মরত) এবং স্থানীয় আবু হুসাইন সিদ্দিকীর সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গভীর রাতে ফজলে রহমান ও তার ছেলেরা প্রফেসর আফজালের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনার সময় বাড়ির পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরদিন বাড়ির লিচু ও আমগাছের চারপাশের ঘেরা ভেঙে ফেলা হয় এবং একটি শিমুল গাছ কেটে নেওয়া হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির কেয়ারটেকার বাধা দিতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে থাকা সরকারি রাস্তা বাঁশ ও লোহার বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

২. রসুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ:
দ্বিতীয় অভিযোগে জোয়ার গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তিনি কায়েমপুর মৌজার ২৬ শতক জমি বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিন চাষাবাদ করে আসছেন। জমির মালিক প্রফেসর আফজাল হোসেন ও আবু হুসাইন সিদ্দিকী। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ মার্চ ২০২৬ রাতে তার রসুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে গাছের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের অবহিত করেন। ঘটনার রাতে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তদের সন্দেহজনকভাবে ওষুধের জারকিন হাতে চলাফেরা করতে দেখেছেন। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা উল্টো গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেছেন।


৩. শরিষা ফসল নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকি:
সর্বশেষ অভিযোগে একই এলাকার বাসিন্দা আবু হুসাইন সিদ্দিকী জানান, তার বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার জমিতে প্রবেশ করে শরিষা কাটতে শুরু করে। বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে এবং তারা বর্তমানে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী প্রফেসর ডা. মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, “ঘটনাগুলোর পেছনে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে আলতাফ হোসেনের ছেলে আকতারুলকে এসব ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও প্রভাবক মনে করি। তার প্ররোচনা ও সাহসেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।”

এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য:
তবে এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলে রহমান ও মাহাবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানি করার চেষ্টা করছে। আমরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”

থানা পুলিশের মন্তব্য:
এসব ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, “একই পক্ষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কেউ জোরপূর্বক দখল, ভয়ভীতি বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, ধারাবাহিক অভিযোগের পরও কেন দৃঢ় ও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? ভুক্তভোগীরা তাদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ সহিংস রূপ নিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন