• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

সদরপুরে বাড়িতে ঢুকে স্কুল শিক্ষককে গুলি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫২ পিএম;
সদরপুরে বাড়িতে ঢুকে স্কুল শিক্ষককে গুলি

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরের সদরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়িতে ঢুকে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৬) নামে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। হেলমেট পরিহিত ১৪-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে। পরে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মোস্তাফিজুর রহমানকে বুধবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত মোস্তাফিজুর রহমান জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে। তিনি সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বোন মোহসীনা আক্তার দাবি করে বলেন, বুধবার স্কুল শেষে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফেরেন আমার ভাই। ১৪-১৫ জন যুবক মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা অবস্থায় বাড়িতে ঢোকেন। তাদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও কাঠের লাঠি ছিল।

তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীরা স্কুল থেকে মোস্তাফিজুরকে অনুসরণ করে বাড়িতে এসে গুলি করেন। গুলিতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে হামলাকারীরা চলে যান।

মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান অভিযোগ করে বলেন, ২৬ শতাংশ জমি চরভদ্রাসনের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছিলেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তি আরও প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে। আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মইদ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে পড়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। তখন পায়ে আঘাত লাগে। তার পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, আহত শিক্ষককে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার ‘ইনজুরি নোট’ অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। এতে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি, বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক হুমায়ূন কবীরের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই। তাছাড়া এ ঘটনায় থানায় কেউ কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন