• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বগুড়ায় ভুয়া শিক্ষা সনদ ব্যবহারের অভিযোগ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত শুরু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০৩ পিএম;
বগুড়ায় ভুয়া শিক্ষা সনদ ব্যবহারের অভিযোগ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত শুরু

বগুড়ার শাজাহানপুরে জাল শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

অভিযুক্ত ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপন শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক। গত ২৮ জুন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে তাঁকে খড়না ইউনিয়নের নাদুর পুকুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বনভেটি আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে হলে অন্তত স্নাতক (ডিগ্রি) পাস হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সভাপতি পদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য ফজলুল হক উজ্জ্বল যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ জাল ও টেম্পারিং করা।

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন খড়না ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের জমা দেওয়া সনদের রোল নম্বর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাই করলেই সনদটির ভুয়া রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এছাড়া তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং দাখিলকৃত শিক্ষা সনদে থাকা নামের বানানেও গরমিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মহসীন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে ও রাজনৈতিক তদবিরের জোরে উজ্জ্বল ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমাদের দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপন বলেন, ‘আমি শিক্ষা বোর্ডে যে সনদ জমা দিয়েছি, তা শতভাগ সঠিক ও বৈধ। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া একটি প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে।’

এদিকে সনদ জালিয়াতির বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণাই ছিল না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

নাদুর পুকুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, সভাপতি হওয়ার জন্য উজ্জ্বল যে কাগজপত্রগুলো সরবরাহ করেছিলেন, নিয়মানুযায়ী সেগুলোই শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছিল। একই ধরনের কথা বলেন বনভেটি আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানও। তাঁরা উভয়েই আশা প্রকাশ করেন যে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিসিয়াল চিঠিতে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা সংবলিত চিঠি হাতে পাওয়ার পরই অভিযুক্ত সভাপতির দাখিল করা সনদপত্রগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষা বোর্ডে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তদন্তে যদি শিক্ষা সনদ জাল বা টেম্পারিংয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্ত নেতার সভাপতির পদ এবং বোর্ডের অনুমোদন যেকোনো সময় বাতিল হতে পারে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন