• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বগুড়ায় চোর সন্দেহে ধরে নিয়ে যুবকের পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৯ পিএম;
বগুড়ায় চোর সন্দেহে ধরে নিয়ে যুবকের পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

লিটু নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া::

 

বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামীম হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার বারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার মরদেহ বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম শাফি এবং তার ছেলে ছাত্রদল নেতা নাজমুল হোসেন কাইয়ুমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।


শামীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনতা বারপুর-পীরব আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরে খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

নিহতের শাশুড়ি ছোবেদা বেগম জানান, এক আত্মীয়ের দাফনকাজে অংশ নিতে শামীম বারপুর এলাকায় এসেছিলেন। রাতে তিনি ওই এলাকায় হাঁটাহাঁটি করার সময় ইউপি সদস্য এবিএম শাফি ও তার ছেলে নাজমুল হোসেন কাইয়ুমসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক আটক করে নির্যাতন চালান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘একপর্যায়ে শামীমের পায়ের রগ কেটে দিয়ে তাকে ফেলে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম হোসেন জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিহত শামীম রাতে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই তাকে চোর সন্দেহে আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘মারধরের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া অভিযোগ ও দাফনে অংশ নিতে আসার তথ্যটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।’

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এলাকার এক নাইটগার্ড ও এক চৌকিদারকে থানায় আনা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও তার ছেলের সংশ্লিষ্টতা বা তাদের আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন