মাদারীপুরের ডাসারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে যুবককে ‘বন্ধক’ রেখে ইয়াবা পাচার!
লিটু, স্টাফ রিপোর্টার, ডাসার (মাদারীপুর):
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় চাকরির লোভ দেখিয়ে সাব্বির হাওলাদার (২৫) নামের এক তরুণকে কক্সবাজারের টেকনাফে নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে ‘বন্ধক’ রাখার অভিযোগ উঠেছে। আসাদ বেপারী নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার ইয়াবা সংগ্রহের জন্য এই জিম্মি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত আসাদ বেপারী ডাসার উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া গ্রামের নোয়াবালী বেপারীর ছেলে। আর ভুক্তভোগী সাব্বির হাওলাদার একই গ্রামের শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ইয়াবার মূল্য পরিশোধ না করায় সাব্বিরকে টেকনাফে আটকে রাখা হয়েছে এবং গত প্রায় এক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো স্বাভাবিক যোগাযোগ নেই।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ মাইজপাড়া গ্রামে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের ভাষ্য ও প্রেক্ষাপট:
পরিবার সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পাস করার পর সাব্বির হাওলাদার একটি চাকরির জন্য চেষ্টা করছিলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী আসাদ বেপারী তাকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে ইয়াবা চক্রের কাছে সাব্বিরকে জিম্মি বা ‘বন্ধক’ রেখে তিন লাখ টাকার ইয়াবা সংগ্রহ করে আসাদ একাই এলাকায় ফিরে আসেন বলে পরিবারের জোরালো দাবি।
নিখোঁজ সাব্বিরের মা রাবেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চাকরি দেওয়ার কথা বলে আসাদ আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি, টেকনাফে তাকে বন্ধক রেখে তিন লাখ টাকার ইয়াবা আনা হয়েছে। গত এক মাসে ছেলের সঙ্গে মাত্র একবার কথা হয়েছে। এখন তার ফোন পুরোপুরি বন্ধ, সে কোথায় ও কী অবস্থায় আছে আমরা কিছুই জানি না। আমি আমার বুকজুড়ে থাকা সন্তানকে নিরাপদে ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ ও অভিযুক্তের ভূমিকা:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত আসাদ বেপারী অতীতে কিছুদিন লিবিয়ায় ছিলেন। দেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তিনি এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসাদ বেপারীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কলের লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার বিষয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান মাহমুদ জানান, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: