গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে পানি দিয়ে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে পানি দিয়ে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস এ অভিযোগ করেন।
তবে পুলিশ বলছে, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকার ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে বাড়িটিতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়িটির ভেতরে পানি দেওয়ার ঘটনায় আপত্তি জানান সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস।
তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির লাইট বন্ধ করে পানি দিয়ে ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট করা হয়েছে।
পার্থ দাস বলেন, ‘ওরা আমার ভাইটাকে মেরে ফেলবে। ওরা সব মিশায় দিয়ে আমার ভাইটাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে। আমি কইলাম, এগুলো করা যাবে না।
আপনারা করলেন কেন? জল দিয়ে সব ভাসায় দিয়েছে। লাইট সব বন্ধ করে রেখেছে। এদের কোনো এখতিয়ার নেই ভিতরে ঢোকার। এরা ঢুকল কেন? মোটর কেন ছাড়ল, একেবারে জল দিয়ে সব ধুয়ে মুছে দিল।’
সিদ্ধার্থের বাবাও পুলিশের পানি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ পানি দিচ্ছে, তারা কি এটা দিতে পারে? তারা কেন মোটরের সুইচ দেবে? পানি দেওয়া ভালো কি মন্দ আপনারাই দেখেন।’
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ছাদে থাকা পানির ট্যাংকির আশপাশে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ছাদ থেকে পানি নিচের আঙিনাতেও পড়ছিল।
তবে সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য হাকিম বলেন, সিঁড়ির পাশের লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে ভুল করে পানির মোটরের সুইচ চালু হয়ে যায়। ট্যাংক ভর্তি হয়ে গেলে মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে লাইট বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেননি।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সেখানে আর কোনো আলামত নেই। সবকিছু আমরা উদ্ধার করেছি। আমরা সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রেখেছি। পরবর্তীতে বাড়িটি হস্তান্তর করা হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: