আলফাডাঙ্গার গভীর রাতে চাচার বাড়িতে ভাতিজাদের হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
আলফাডাঙ্গায় গভীর রাতে আপন চাচার বসত বাড়িতে
হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে নিজ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আপন ভাতিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বেড়িরহাট বাজারসংলগ্ন ধুলঝুড়ি গ্রামের রেজিনা বেগম (৩৬) বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় অভিযোগটি করেন। এতে ভাতিজা হাসান শেখসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার হাতুড়ি, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেজিনা বেগমের বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়ির আটটি থাইগ্লাসের জানালা ভাঙচুর এবং দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যান। বাড়ি ছেড়ে না গেলে আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রেজিনা বেগম বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে তারা রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আটটি থাইগ্লাসের জানালা ভাঙচুর ও দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
তিনি আরও বলেন, এর আগেও তাঁদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ, স্বপ্না খাতুন ও নরসাদ শেখ বলেন, রাতের চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির জানালার থাইগ্লাস ভাঙা এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী রোজিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’ হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ করা হয়েছে দাবি করে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: