মাগুরার শ্রীপুরে নারীসহ ৭ ভুয়া সিআইডি পুলিশ আটক
মোঃ রাশিদুল ইসলাম, মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শ্রীপুরে এক নারীকে অপহরণ করতে যাওয়ার সময় নারীসহ সাতজন ভুয়া সিআইডি পুলিশকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার নাকোল গ্রামের পশ্চিমপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই এলাকার আসমা খাতুন (৩১), ওসমান গনি (২৫), সাব্বির হোসেন (২২), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান হাসান (২৮), আরাপপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), আড়মুখ গ্রামের সাকিব হোসেন (২৩) এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার দোবিলা গ্রামের আল আমিন হোসেন (২২)।
বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, রাতে একটি মাইক্রোবাসের সন্দেহজনক চলাচল দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট ও একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটটি মোবাইল ফোনসহ মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক সাতজন সিআইডির পরিচয় ব্যবহার করে নাকোল গ্রামের এক নারীকে অপহরণ করতে গিয়েছিলেন। ওই নারীকে অপহরণের জন্য ঝিনাইদহ থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তারা নাকোলে আসেন।
পুলিশ সুপার জানান, শ্রাবণী নামে ওই নারীর প্রায় এক বছর আগে নাকোল গ্রামের মোস্তাক নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ করে তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই এলাকার শিমুল নামে এক যুবককে বিয়ে করেন। তবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রথম স্বামী মোস্তাক শ্রাবণীকে শিমুলের কাছ থেকে নিয়ে আসেন।
এরপর শ্রাবণীকে ফিরে পেতে দ্বিতীয় স্বামী শিমুল পরিকল্পনা করেন এবং পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে আটককৃত সাতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, সিআইডির পোশাক পরে ও খেলনা পিস্তল সঙ্গে নিয়ে তারা শ্রাবণীকে তুলে নিতে নাকোলে আসেন।
এ ঘটনায় আটক সাতজনের পাশাপাশি শ্রাবণীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাদের শ্রীপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: