• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

খিলক্ষেত বিআরটিএতে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩০ পিএম;
খিলক্ষেত বিআরটিএতে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

খিলক্ষেত বিআরটিএতে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ
দালালচক্র ও ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ সেবাপ্রার্থীরা

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :

 

রাজধানীর খিলক্ষেতে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (এডি) মো. জিয়াউর রহমান জিয়ার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন, ফি পরিশোধ এবং পরীক্ষার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও অনেক প্রার্থী কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অন্যদিকে, একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা আদায় করা হচ্ছে, যা সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রবেশের পর থেকেই দালালদের তৎপরতা চোখে পড়ে। বিভিন্ন অজুহাতে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাসে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার আবেদন বা ফাইল নিষ্পত্তিতে অযথা বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার দিনও অনেককে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি সেবা গ্রহণে মানুষের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য চালক তৈরির বিকল্প নেই। আর সেই প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান। সেখানে যদি অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, অভিযোগের তীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকেও উঠেছে। যদিও অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

তাদের মতে, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান থাকতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিআরটিএকে দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দ্রুত ও ন্যায্য সেবা পেতে পারেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন