• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. রাজনীতি

বরগুনায় বিএনপি নেতার কাণ্ডে নিন্দার ঝড়


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০২ পিএম;
বরগুনায় বিএনপি নেতার কাণ্ডে নিন্দার ঝড়

বরগুনার পাথরঘাটায় তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মায়ের হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ ছগির হোসেন নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ ছগির হোসেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, পরকীয়ার অভিযোগ তুলে ওই নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সন্তানকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ওই নারীর হাত-পা বাঁধা হচ্ছে। এ সময় পাশে শিশু সন্তানটি অনবরত কান্না করতে শোনা যায়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ছগির হোসেন পাশে চেয়ারে বসা ছিলেন। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

ওই নারীর বাবা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগির হোসেন মোবাইল ফোনে কল করে জানান যে তার মেয়ের বাসা থেকে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগিরের নেতৃত্বে কয়েকজন তার মেয়ে ও এক যুবককে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে পরকীয়ার অভিযোগে মারধর করছেন। 

তিনি আরও বলেন, রাত ১১টার দিকে আমার মেয়ে আমার বাড়িতে খাবার খেয়ে একটু সামনেই তার বাড়িতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এক যুবককে আটক করে তার মেয়ের কাছে নিয়ে আসে। এরপর তার মেয়ের সঙ্গে ওই যুবককে বেঁধে মারধর করা হয়। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সঙ্গে আমাদের জমি-জমাসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ছগির হোসেন সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারীর বাবা।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) মো. ছগীর হোসেন বলেন, নিজলাঠিমাড়ার ঘটনার খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই নারীর বাবাকে ডেকে আনা হলে তিনি মেয়েকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের দাবিতে একপর্যায়ে ওই নারীকে জুতাপেটা করা হয়।

সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মামলা বা হয়রানি এড়াতেই এ স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন