জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ইরানকে দ্রুত ‘ধূলিসাৎ’ করার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে নাকি শান্তি চুক্তির পথে হাঁটা হবে—সেই বিষয়ে তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমঝোতা না হলে তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। তবে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভাষণে হুমকি দিলেও নেপথ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প জানান, জাতিসংঘের পার্শ্ববৈঠকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ৩ ঘণ্টার একটি ‘উৎপাদনশীল’ বৈঠক হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উইটকফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি।
ভাষণে বিশ্বায়নের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প জানান, কোনো ‘বৈশ্বিক সরকার’ বলতে কিছু নেই। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নাম বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখার প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রযুক্তির লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চীনের কাছে পরাস্ত হবে না। এছাড়া তিনি গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মাইয়ুং এবং সৌদি আরব, ইউএই, কাতারসহ বিভিন্ন আরব দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার শেষ ভাষণে বিশ্বজুড়ে গভীর হতে থাকা বিভাজন নিয়ে সতর্ক করেন এবং বিশ্বশক্তিগুলোকে তাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেন।
ভাষণে ট্রাম্প কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তাদের ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দেন। প্রেসিডেন্ট যখন কিউবা ও মার্কিন বামপন্থী দলগুলোর সম্পর্কের অভিযোগ তুলছিলেন, তখন কিউবার প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।
সূত্র: বিবিসি
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: