• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

ফরিদপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য-কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ৮জনের নামে থানায় মামলা 


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:০৩ এএম;
ফরিদপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য-কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ৮জনের নামে থানায় মামলা 

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার রেশ ধরে আব্দুর রহমান নামের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বোয়ালমারী থানায় ৮জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৬/২৬; তারিখ : ২১.০৯.২০২৬ খ্রি:। উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মৃত আজাহার শেখের ছেলে আকরাম শেখকে ১নং আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন আজহার শেখের অপর সন্তান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ভিক্টিম আব্দুর রহমান নিজেই। 

স্থানীয় সুত্র, মামলার এজাহার এবং পুলিশসহ বিভিন্ন সুত্রে এ বিষয়ে জানা যায়, সেনা সদস্যকে হত্যা চেষ্টা একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে। 
খোজ নিয়ে জানা যায়,
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও তাঁর স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার হয়। প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ওই সেনা সদস্যের ডান পা ভেঙে যায়। বাম পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আজাহার শেখের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ আব্দুর রহমানের (৪৮) সাথে তাঁর ছোট ভাই মোঃ মিজানুর শেখ ও আমিনুর শেখসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মিজানুর শেখ (৪০), ইয়াসিন শেখ (২২), আমিনুর শেখ (৩৮) ও ওমর শেখ (১৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন জমি থেকে জোরপূর্বক একটি বড় নিম গাছ কাটতে শুরু করেন। আব্দুর রহমান এতে বাঁধা দিলে বিবাদীরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পরিবারসহ আব্দুর রহমানকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ওইদিনই বোয়ালমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোয়ালমারী থানার এএসআই মো. ফয়সাল আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দেন। এএসআই ফয়সাল আহমেদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষের সর্বসম্মতিতে উল্লেখিত ঘটনার একটি সুন্দর সুরাহা ঘটে। এমনকি গাছ কাটার খরচ বাবদ ১হাজার টাকা আকরাম শেখ গংদের দেবার জন্য আব্দুর রহমানকে প্রস্তাব দেন এএসআই ফয়সাল। অথচ প্রতিপক্ষ অত্যন্ত বিনিময়ের সাথে টাকা দেওয়া লাগবে না বলে জানায়। ফলে মিমাংসাটি অধিক ফলপ্রসু ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়। সিদ্ধান্ত মাতাবেক কাটা নিম গাছটি আব্দুর রহমানকে দেওয়া হয়। 

তবে আশ্চর্যের বিষয় পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর সম্ভবত বিশেষ কারও ইঙ্গিতে সকালে বিবাদীরা কাটা নিমগাছটি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।

থানা থেকে গাছ জব্দ করার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিবাদীরা পুনরায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। স্বামীর ডাক-চিৎকার শুনে স্ত্রী সেলিনা বেগম স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে আব্দুর রহমানের একটি পা ভেঙে যায়। এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কোপানো হয়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন, "বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে। প্রকাশ্য দিবালোকে অন্যায়ভাবে আমার জায়গার গাছ কেটে নিয়ে গেছে। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। এখন এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ওরা আমাকে খুন করার জন্যই অতর্কিতে হামলা করে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।"

বিবাদী আমিনুর শেখের নম্বরে একাধিকবার কল করলেও রিসিভি না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। পরদিন বিবাদীরা গাছটি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে গাছের গুড়িগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তবে পরবর্তীতে মারামারির সংবাদ পেয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাদীদের কাউকে পাওয়া যায়নি।’

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন