বোয়ালমারীতে হামলার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও স্থানীদের সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা দাবি
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়েনদিয়া বাজারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী খাড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা জিহাদ মিয়া, সলেমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি ময়েনদিয়া বাজারে এসে বিভিন্ন দোকানে চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা হাসান নামে এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর কাছেও চাঁদা চান বলে অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজন জড়ো হয়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে জিহাদ স্থানীয় লোকজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
মজিবর রহমান মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, 'জিহাদ মিয়া সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালায়। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।'
মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, 'টুলু মিয়া, জিহাদ মিয়া, সুজন, সজিবসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে ময়েনদিয়া বাজারে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। শনিবার বিকেলেও তারা এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের প্রতিহত করেন।'
ভুক্তভোগীরা বলেন, ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তারা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ চাঁদাবাজরা একটি বিশেষ দলের সমর্থক হয়ে তারা বিএনপি পরিচয় দেয়। মুলত তারা জামাত সমর্থিত বলে দাবী করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে ওঠা চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিহাদ মিয়া, সলেমান, টুলু মিয়া, সুজন ও সজিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়েনদিয়া বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: