• ঢাকা
  • সোমবার, ৩১ আগষ্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

ফরিদপুরে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু; অভিভাবকদের দাবী হত্যা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৯ পিএম;
ফরিদপুরে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু; অভিভাবকদের দাবী হত্যা

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

 

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের বড়বাড়ী (মাদ্রাসা বিল্ডিং) এলাকায় অবস্থিত ‘আল-কারীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে’ চিকিৎসাধীন আমিন খান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ।
নিহত আমিন খান ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রেস ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আমিন খানের মধ্যে মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে তাঁকে আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানায়।
মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আমিন খানের মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তাঁর দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার দাগ দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তারা। পাশাপাশি মরদেহের গায়ের রং হলুদাভ দেখাচ্ছিল বলেও জানান স্বজনেরা।
নিহতের ভাই রবিউল খান অভিযোগ করে বলেন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই রিহ্যাব কর্তৃপক্ষের আচরণে অসংগতির দেখা গেছে। তাঁর দাবি, শরীরে দড়ির দাগ থাকার পরও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে সাধারণ মৃত্যুর রিপোর্ট করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর রিহ্যাবের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর কথা বলে স্বজনদের সঙ্গে না নিয়ে একাই থানায় চলে যান। পরে স্বজনেরা রিহ্যাব সেন্টারে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে সেখানে মৃত্যুর আগে গভীর রাতে আমিন খানকে হাত-পা বেঁধে চেপে রাখার দৃশ্য দেখতে পান বলে দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, ওই সময় তিনি অতিরিক্ত ঘেমে পড়েছিলেন। তবে পুরো ফুটেজ দেখতে চাইলে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ তা না দেখিয়ে সিসিটিভি কক্ষ থেকে চলে যায় বলেও অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
তবে নিহতের পরিবারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমিন খান রাতে ঘুমের সময় অন্য রোগীদের বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছিলেন। পরে সকালের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রিহ্যাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে আমিন খানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং তাঁর শরীরে থাকা দড়ির দাগের কারণ কী! তা নিশ্চিত হ'তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন