• ঢাকা
  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অর্থনীতি

পটুয়াখালীতে ঋণের বোঝায় দিশাহাছে না ইলিশরা জেলেরা , ভরা মৌসুমেও জালে মিলছে না ইলিশ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫৪ পিএম;
পটুয়াখালীতে ঋণের বোঝায় দিশাহাছে না ইলিশরা জেলেরা , ভরা মৌসুমেও জালে মিলছে না ইলিশ

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী সমুদ্র উপকূলের জেলেদের জীবিকার স্বপ্নে এখন শুধুই দুশ্চিন্তার ছাপ। প্রতিটি মৌসুমেই বুকভরা আশা নিয়ে তারা নদী কিংবা সাগরের বুকে পাড়ি জমান। কিন্তু ভরা মৌসুমেও জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না ওঠায় উপকূলের হাজারো জেলের পরিবারে এখন নেমে এসেছে গভীর হতাশা।

মাছ ধরাই এখানকার মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। "আজ ইলিশ না মিললেও কাল হয়তো জালে রূপালির ঝিলিক দেখা মিলবে"—এই আশাতেই বারবার সাগরে নামেন তারা। একটি জালের সঙ্গে যেন তারা জড়িয়ে দেন পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার আকুতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গাবালী জেলেদের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই নতুন কিছু নয়। সাগরে লঘুচাপ বা বৈরী আবহাওয়া তৈরি হলে উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মাঝপথেই অনেক জেলেকে ঘাটে ফিরে আসতে হয়। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট মাসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙ্গাবালীর হাজারো জেলেকে শূন্যহাতে সাগর থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল।

একদিকে সমুদ্রের মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে আবহাওয়ার ঝুঁকি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে চরম দিশেহারা উপকূলের জেলেরা। মাছ ধরতে যাওয়ার আগে মহাজন বা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে জ্বালানি, বরফ, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে হয় তাদের। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।


সমুদ্রগামী জেলে মো. খলিল বলেন, "এ সময়টাতে আমরা নদী-সাগরে ভালো ইলিশ পাওয়ার আশা করি। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও তেমন মাছ মেলে না। ট্রলারে জ্বালানি, বরফ ও খাবারের পেছনে অনেক খরচ হয়। মাছ না পেলে সেই খরচই ঘাড়ে ঋণের বোঝা হয়ে চাপে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সাগরে যাওয়া যায় না, আবার ভালো থাকলেও জালে ইলিশ ওঠে না। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।"

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রিপন বলেন, "জেলেরা মাছ না পেলে আমাদের ব্যবসাও থমকে যায়। আগে ভরা মৌসুমে আড়তে মাছের ছড়াছড়ি থাকত, ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততায় মুখর থাকত হাট। এখন পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় জেলেদের যেমন লোকসান হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও পুঁজি আটকে যাচ্ছে।"

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী জানান, "ইলিশের উৎপাদন ও প্রজননের সঙ্গে নদী-সাগরের পরিবেশ, পানির প্রবাহ ও বৃষ্টিপাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং জাটকা রক্ষায় মৎস্য বিভাগের অভিযান ও নজরদারি নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে।"

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন