• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. আইন ও আদালত

অটোভ্যান ছিনিয়ে নিতে চালককে হত্যা, দুই কিশোরের ১৩ বছরের কারাদণ্ড


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:২২ এএম;
অটোভ্যান ছিনিয়ে নিতে চালককে হত্যা, দুই কিশোরের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

অটোভ্যান ছিনিয়ে নিতে চালককে হত্যা, দুই কিশোরের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

চালককে হত্যার পর অটোভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই কিশোরকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের শিশু আদালত। একই সঙ্গে দুই ধারায় দুই কিশোরকে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা শিশু আদালতের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অটোভ্যান চালক হারুন অর রশিদ (৪৪) হত্যার দায়ে দুই আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া হত্যার আলামত নষ্ট করার দায়ে প্রত্যেককে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা ভোগ করতে হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলার নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে অটোভ্যান নিয়ে বের হন তিনি। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি।

পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাইনবোর্ড এলাকার খালেক দেওয়ানের মেহগনি বাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় হারুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রহিমুন বেগম (৪২) বাদী হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলা তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ফাহিম ফয়সাল তরফদার ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ দুই কিশোরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যার আলামত নষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পৃথক এ সাজা দেন।

মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দুই আসামির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে অপরাধ সংঘটনের সময় তারা শিশু থাকায় শিশু আদালতেই তাদের বিচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাদের জেলা কারাগারে প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ কয়েদিদের মতোই সাজা ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার পর মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া বলেন, এটি একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। দুই কিশোর একটি অটোভ্যান ছিনতাই করার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সমাজে ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ রায় এমন অপরাধ দমনে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
 

 

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন