মহম্মদপুরে পল্লী বিদ্যুতের স্বেচ্ছাচারিতা: ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
মহম্মদপুরে পল্লী বিদ্যুতের স্বেচ্ছাচারিতা: ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, এজিএমের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে জনজীবন অতিষ্ঠ
এস এম আজগর আলী :
মাগুরার মহম্মদপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের স্বেচ্ছাচারিতা ও চরম দায়িত্বহীনতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ৩:৩০ পর্যন্ত টানা সাড়ে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকার হাজারো মানুষ, রোগী ও ব্যবসায়ীদের। যদিও বেলা ১২টার দিকে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ এসে ১০ মিনিট পর আবার চলে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিএনটি অফিসের ভেতরের ট্রান্সমিটারের একটি ফিউজ বা পিন পড়ে যাওয়ার কারণে এই বিঘ্ন ঘটেছিল।
বিশেষ করে মহম্মদপুর হাসপাতাল রোড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে শত শত রোগী আসেন বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এক্স-রেসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ থাকে। হাসপাতাল রোডের ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধের দোকানদার ও সাধারণ রোগীরা বিদ্যুৎ অফিসে বারবার ফোন করে দ্রুত বিদ্যুৎ চালুর অনুরোধ জানান।
এ সময় অফিস থেকে অত্যন্ত দায়িত্বহীন জবাব দেওয়া হয় ‘এখন নামাজ, নামাজ পড়ে যাব।’ পরবর্তীতে নামাজের সময় পেরিয়ে ফোন দিলে জানানো হয়, ‘এখন খাওয়া-দাওয়া করবে, তারপরে যাবে।’ ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে বিষয়টি মহম্মদপুর পল্লী বিদ্যুতের এজিএম-কে ফোনে জানান। এজিএম অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, ‘কে, কী হয়েছে বলুন।’ বিনয়ের সাথে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হলে তিনি উদাসীনভাবে জানান, ‘ঠিক আছে আমি জানিয়ে রাখবো, সময় হলে যাবে’ বলেই লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘এই যাবে, এই আসছি’ বলে গড়িমসি করতে করতে বেলা ৩:১০ এর দিকে এক গ্রাহক সরাসরি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পুনরায় বিষয়টি জানান। তখন ডিউটিরত কর্মীরা বলেন, ‘জরুরি হলে ভ্যানে করে মালপত্র নিয়ে যান, আমরা লোক পাঠাবো।’ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ওই গ্রাহক নিজ উদ্যোগে ভ্যানে করে পল্লী বিদ্যুতের মালামাল টিএনটি অফিসের সামনে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর দুপুর আনুমানিক ৩ঃ৩০ টার দিকে ফিউজ তুলে দিরে পুনরায় বিদ্যুৎ লাইন চালু করা হয়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, এমনিতেই প্রতিদিন অসহনীয় লোডশেডিং এবং মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। তার ওপর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন রুক্ষ আচরণ ও অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি কর্মচারীরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পেলেও তারা জনগণের সেবা প্রদানে সম্পূর্ণ উদাসীন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট এজিএমসহ দায়িত্বে অবহেলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও দ্রুত বদলির জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এটা শুধু একটি ঘটনা এরকম বহু ঘটনা রয়েছে মহম্মদপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সম্পর্কে। আপনার জানা থাকলে ইনবক্স করুন। প্রয়োজনে ধারাবাহিক ভাবে লিখব মহম্মদপুর বিদ্যুৎ অফিস সম্পর্কে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: