অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় সেনা সদস্যের মৃত্যু
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
অসুস্থ মাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন এক সেনা সদস্য।
প্রতিমধ্যে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ মারা যান।
ফরিদপুরের মধুখালীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পূর্বাশা পরিবহনের বাসের ধাক্কায় বাসের সুপারভাইজার নিহতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন গুরুতর আহত এক সেনাসদস্য। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইজনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মধুখালী উপজেলার শাহ হাবিব দাখিল মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪৫৮৫) এবং মাগুরাগামী ময়দা বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-২৮৭৪) একই সড়কে চলাচল করছিল। এর মধ্যে ট্রাকটির একটি টায়ার হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে চালক টায়ার পরিবর্তনের জন্য ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন।
এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা পূর্বাশা পরিবহনের বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সুপারভাইজার মো. জুয়েল (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত জুয়েল চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এবং খাদিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাসের বাম পাশে ইঞ্জিন কভারের ওপর বসে ছিলেন।
এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা আহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য নাঈম। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, অসুস্থ মাকে দেখতে এক দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় কর্মস্থল থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন সেনাসদস্য নাঈম। পথেই মধুখালীর ওই দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিএমএইচ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই নাঈম মারা যান।
অসুস্থ মাকে দেখতে ছুটি নিয়ে বাড়ির পথে বের হয়ে নাঈমের আর মায়ের কাছে ফেরা হলো না। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একদল সেনাসদস্যের উপস্থিতিতে নাঈমকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে নিজ গ্রামের গোবিন্দহুদা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনাসদস্য নাঈমকে দাফন করা হয়।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: