• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বাকেরগঞ্জে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫৩ পিএম;
বাকেরগঞ্জে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

বাকেরগঞ্জে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়: ‘অভি গোমেজ’কে নিয়ে প্রশ্ন,মাদক ও অপরাধের অভিযোগে উদ্বেগে এলাকাবাসী।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ আজ এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। একটি ভাইরাল ভিডিও যেন পুরো এলাকার দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা ও আতঙ্ককে একসাথে বিস্ফোরিত করে দিয়েছে। ভিডিওতে যাকে দেখা গেছে, স্থানীয়দের দাবি—তিনি অভি গোমেজ। আর এই এক নামকে কেন্দ্র করেই এখন প্রশ্নের পর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে: কে এই ব্যক্তি? কেন এত অভিযোগ? আর প্রশাসন এখনো নীরব কেন?স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভি গোমেজ ১৩ নং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার পিতা মিঠু ডি. কস্তা ছিলেন  বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৩ নং পাদ্রীশিবপুরের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি  ও তার মা রোজালিন রুবি মধু বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতির সংযোগ থাকায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—রাজনৈতিক পরিচয় কি আইনের ঊর্ধ্বে থাকার লাইসেন্স?এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এটি কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগে নাম জড়িয়ে এসেছে এই ব্যক্তির। তবে এতদিন এসব অভিযোগ ছিল ফিসফাসে, চায়ের দোকানের আড্ডায় কিংবা সীমাবদ্ধ কিছু মানুষের কথোপকথনে। কিন্তু ভাইরাল ভিডিও সেই চাপা কথাগুলোকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে—নগ্নভাবে, নির্দ্বিধায়।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই অভিযোগগুলো যদি এতদিন ধরে থেকে থাকে, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? স্থানীয়দের প্রশ্ন, “প্রশাসন কি জানতো না, নাকি জেনেও দেখেনি?” এই প্রশ্ন এখন আর শুধুই প্রশ্ন নয়; এটি একটি সামাজিক অভিযোগ, একটি নৈতিক চ্যালেঞ্জ।তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও উপেক্ষা করা যায় না। ভাইরাল ভিডিও মানেই চূড়ান্ত সত্য—এমন ধারণা বিপজ্জনক। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের একমাত্র পথ হলো নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু একইসাথে এটাও সত্য—ধোঁয়া উঠলে আগুন থাকার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে মাদকের বিস্তৃতি এবং তার ভয়াবহ সামাজিক প্রভাবের একটি প্রতিচ্ছবি। তরুণ সমাজ যখন মাদকের ছোবলে বিপথে যাচ্ছে, তখন সমাজের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের জড়িয়ে পড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে করে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একধরনের অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়—যা আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা। ভিডিওটি ভাইরাল না হলে কি বিষয়টি এত দূর গড়াতো? নাকি সবকিছু আগের মতোই চাপা পড়ে থাকতো? বাস্তবতা হলো, এখন সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সময় ‘বিকল্প আদালত’ হিসেবে কাজ করছে—যেখানে বিচার হয় দ্রুত, কিন্তু সবসময় ন্যায্য হয় না।এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট:“আমরা গুজব চাই না, বিচার চাই। সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি হোক, আর মিথ্যা হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”এই দাবির মধ্যেই লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হতাশা—আইনের সমান প্রয়োগের প্রত্যাশা।বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশাসনের দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ। তদন্ত শুরু, তথ্য যাচাই, এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা—এসবের মাধ্যমেই কেবল জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অন্যথায়, এই নীরবতা আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দেবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন