• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. দূর্ঘটনা

নদীতে ডুবে বাবা-চাচার মৃত্যু; অসহায় হয়ে তাকিয়ে রইল দুই কিশোর


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:১৮ পিএম;
নদীতে ডুবে বাবা-চাচার মৃত্যু; অসহায় হয়ে তাকিয়ে রইল দুই কিশোর

নুর-আমিন, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আত্রাই নদীতে গোসল করতে নেমে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। মুহূর্তের অসতর্কতায় নদীর গভীরে তলিয়ে গিয়ে নিভে গেছে দুটি তাজা প্রাণ—নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।

বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টায় উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কালিরবাজার ঘাট এলাকায় আত্রাই নদীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রাজধানী ঢাকার মিরপুর–১১ এলাকার বাসিন্দা, মৃত সিরাজ উদ্দিনের দুই ছেলে—মান্না ইসলাম (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সাদ্দাম হোসেন স্বপরিবারে ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার চাম্পাতলী গ্রামে আসেন। বুধবার সকালে সেখান থেকে লিচু কেনার উদ্দেশ্যে তারা খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার এলাকায় একটি লিচু বাগানে যান। ফেরার পথে কালিরবাজার ঘাটে নদীর পানিতে নেমে একসঙ্গে চারজন গোসল করতে শুরু করেন।

এ সময় মান্না ইসলামের দুই ছেলে—সজীব (১৬) ও নুর আলম (১২)—কোনোভাবে নদী থেকে উঠতে সক্ষম হলেও হঠাৎ করেই মান্না ইসলাম ও তার ভাই সাদ্দাম হোসেন গভীর পানিতে তলিয়ে যান। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চারদিকে নেমে আসে আতঙ্ক আর হাহাকার।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে তারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মান্না ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে সাদ্দাম হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে।

 

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে নদীর পানি তুলনামূলক কম থাকলেও ওই ঘাট এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গর্তেই দুই ভাই তলিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারেননি।

এ বিষয়ে খামারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার ভাষায়, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ওই স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গোসল করতে নামলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।”

অন্যদিকে, খানসামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে উদ্ধার করে। পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করলে অপরজনের মরদেহও উদ্ধার সম্ভব হয়।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সরকার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই শোকাবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর বেদনা। একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অসীম কান্নায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কালিরবাজার ঘাটের চারপাশ।

 

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন