দুমকিতে থানায় মুচলেকা দিয়েও থামেনি বখাটে সাইফুল, নিরাপত্তাহীনতায় কলেজছাত্রীর পরিবার
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম (৩২) নামের এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় শালিস ও থানায় মুচলেকা দেওয়ার পরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে মেয়েকে বাঁচাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগীর মা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আঃ লতিফ মৃধার ছেলে মাদকাসক্ত সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। শুধু পথরোধই নয়, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বসতবাড়ির আশপাশ ও গোসলখানার কাছাকাছি স্থানেও এসে সে উৎপাত করত। বখাটের ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনে ছাত্রীটি
চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং তার স্বাভাবিক জীবনযাপনসহ লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অভিযুক্তের অত্যাচার বেড়ে গেলে পূর্বে স্থানীয়ভাবে শালিস-মীমাংসা করা হয় এবং থানা পুলিশে মুচলেকা দেয় সাইফুল। কিন্তু কিছুদিন পর সে আবারও কুপ্রস্তাব ও হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে। কোনো উপায় না পেয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর মা রিনা বেগম উপজেলানির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউর রহমানকে দায়িত্ব দেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ প্রদান করেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ওই মেয়েকে পছন্দ করতাম, কিন্তু কখনো বিরক্ত করিনি। আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে তারাই আমাকে ডাকাডাকি করে।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সাইফুল মা-বাবার অবাধ্য ও এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। তার মাদকাসক্তি ও অপকর্মের কারণে এলাকার নারী ও তরুণীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বখাটে সাইফুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: