• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির ‘বাদুর মাছ’


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:০৩ পিএম;
কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির ‘বাদুর মাছ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা:

 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে স্থানীয় এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি সামুদ্রিক মাছ। স্থানীয়ভাবে এটিকে ‘কিং চান্দা’ বা ‘বাদুর মাছ’ হিসেবে বলা হলেও, বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটি ব্যাটফিশ পরিবারের একটি প্রজাতি। ব্যতিক্রমী এই মাছটি দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পর্যটকরা।

গত বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুয়াকাটা মৎস্য মার্কেটের মেয়র বাজারে বিক্রির জন্য মাছটি নিয়ে আসা হয়। ৩ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এই মাছটি শেষ পর্যন্ত প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে মোট ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও প্রায় গোলাকার এবং পিঠ ও পেটের পাখনা তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় এটি দেখতে অনেকটা বাদুরের মতো মনে হয়।

জেলে ও ক্রেতাদের মধ্যে কৌতূহল

মাছটি বাজারে নিয়ে আসার পর স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি হয়। মিজান নামের এক স্থানীয় জেলে বলেন, “সাগরে তো নিয়মিতই নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে, কিন্তু এমন চ্যাপ্টা ও বাদুরের মতো দেখতে মাছ সচরাচর চোখে পড়ে না।”

আরেক জেলে জানান, গভীর সাগরে জাল ফেললে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও এই মাছটির গঠন অন্য সবার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আগে এমন মাছ খুব একটা দেখেননি বলে জানান তারা। মাছটির ব্যতিক্রমী চেহারার কারণে বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের মতামত

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Platax teira (প্লাটাক্স টেইরা)। এটি সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাসকারী ব্যাটফিশ বা বাদুর মাছের একটি প্রজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে মাছটি ‘লংফিন ব্যাটফিশ’ (Longfin Batfish) বা ‘টেইরা ব্যাটফিশ’ নামে পরিচিত। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ মেরিন বায়োডাইভার্সিটি পোর্টালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রবালপ্রাচীর-সংর্কীর্ণ সামুদ্রিক পরিবেশে এ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি আগে থেকেই নথিভুক্ত রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “প্লাটাক্স গণের মাছ সাধারণত সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে এ ধরনের মাছের উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে। তবে কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়া মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে এর ছবি ও শারীরিক নমুনা দেখে শনাক্ত করা প্রয়োজন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগেও আমাদের উপকূলে এমন মাছ ধরা পড়ার তথ্য রয়েছে।”

মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই নানা অজানা বা কম পরিচিত প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের মাছগুলোর সঠিক পরিচয়, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করা জরুরি, যা আমাদের জলজ সম্পদ সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানতে সহায়তা করবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন