• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. উৎসব / দিবস

শুভ জন্মাষ্টমী আজ: সত্য, ন্যায় ও শান্তির বার্তা নিয়ে মর্ত্যে এসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:১২ পিএম;
শুভ জন্মাষ্টমী আজ: সত্য, ন্যায় ও শান্তির বার্তা নিয়ে মর্ত্যে এসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি উপলক্ষে সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। উপবাস, পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, কীর্তন, শোভাযাত্রা ও নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর জন্মের সময়টি ছিল গভীর রাত। অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্মের বিনাশ ঘটিয়ে ধর্মে প্রতিষ্ঠাপূর্বক শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে তাঁর এই ধরাধামে আগমন ঘটেছিল।
শাস্ত্র মতে, কংসের অত্যাচারে মথুরাবাসী যখন অতিষ্ঠ, তখন দেবকীর অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন কৃষ্ণ। কংসের হাত থেকে নবজাতককে রক্ষা করতে বাবা বসুদেব তাঁকে গোপনে মথুরা থেকে গোকুলে নিয়ে যান। সেখানে নন্দ ও যশোদার সান্নির্ভে কাটে তাঁর বর্ণিল শৈশব। পরবর্তীতে তিনি কংসের অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে সমাজে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতিতে তাঁর সুগভীর প্রভাব রয়েছে। মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনকে দেওয়া তাঁর উপদেশাবলি ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ নামে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই মহাগ্রন্থে কর্ম, কর্তব্য, ন্যায়, আত্মসংযম ও সত্যের পথে চলার শাশ্বত শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই ভক্তরা মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। অনেকেই দিনভর কঠোর উপবাস পালন করছেন। সন্ধ্যার পর শুরু হয়েছে কীর্তন, ভজন ও ধর্মীয় আলোচনা। গভীর রাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মলগ্ন স্মরণ করে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পূজা ও আরতি।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জন্মাষ্টমী উৎসব ঘিরে প্রতিবছরই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ঘরে ঘরে কৃষ্ণের প্রতিমা ও ছবি সাজানো, ফুল দিয়ে মণ্ডপ সজ্জা এবং প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে চারদিকে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
জন্মাষ্টমীর মূল তাৎপর্য হলো—অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের জয় অবশ্যম্ভাবী। এই দিনটি কেবল জন্মোৎসব নয়, বরং মানবজীবনে সত্য, প্রেম, সহমর্মিতা ও কর্তব্যবোধ চর্চার এক অনন্য উপলক্ষ।
উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আজকের এই পবিত্র তিথিতে মন্দিরে মন্দিরে ধ্বনিত হচ্ছে ‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র। মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মলগ্ন স্মরণের মাধ্যমেই পূর্ণতা পাবে এবারের জন্মাষ্টমীর মূল আনুষ্ঠানিকতা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে জন্মাষ্টমী আনন্দ, ভক্তি ও আত্মশুদ্ধির দিন।
 প্রার্থনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা দেশ, জাতি ও মানবজাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন