• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

আমতলীতে বদ্ধ নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারে অনিয়মের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:১২ পিএম;
আমতলীতে বদ্ধ নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারে অনিয়মের অভিযোগ

মো: আ: কাইয়ুম, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :

 


বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া নদী ও শাখা নদীর ১৫ কিলোমিটার ঘন কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার যেভাবে নদী থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করছেন, তাতে অপসারণের বদলে উল্টো এর বংশবিস্তার আরও বাড়বে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দরপত্রে শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানার মূল মাটি থেকে তুলে পরিষ্কার করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের লোকজন মেশিন দিয়ে শুধু কচুরিপানার উপরিভাগ কেটে ফেলছেন। এতে গোড়া নদীতেই থেকে যাচ্ছে। কেটে ফেলা কচুরিপানাও পড়ে থাকছে নদীর পানিতে।

এদিকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান ঠিকাদার বশির উদ্দিনকে নোটিস দিয়েছেন। নোটিসে দরপত্র অনুযায়ী কাজ না করলে এর দায় ঠিকাদারকেই নিতে হবে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায় নেবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাজের বিলও পরিশোধ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

 সরেজমিন দেখা গেছে, একটি মেশিন দিয়ে নদীর পানিতে থাকা কচুরিপানার উপরিভাগ কেটে ফেলা হচ্ছে। তবে কচুরিপানার গোড়া নদীতেই থেকে যাচ্ছে। কেটে ফেলা অংশও নদীর পানিতে পড়ে আছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার চাওড়া বদ্ধ নদী ও শাখা নদী গত ২৫ বছর ধরে কচুরিপানায় সয়লাব। কচুরিপানার কারণে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে উপজেলার হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়ন এবং আমতলী পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।
নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের দাবিতে সচেতন মহল গত এক দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুবন্ধী নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। তিন কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের আওতায় ১৫ কিলোমিটার নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ পান পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন। গত বুধবার তিনি কাজ শুরু করেন।

এদিকে ঠিকাদার বশির উদ্দিনের ম্যানেজার মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘পানি নষ্ট, শ্রমিকরা নদীতে নামতে চায় না। তাই মেশিন দিয়ে কেটে কচুরিপানা কিনারে আনা হচ্ছে।’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বলেছেন, ‘শ্রমিক দিয়ে নদী থেকে কচুরিপানার গোড়া মাটি থেকে তুলে আনতে হবে, যাতে নতুন করে কচুরিপানার বংশবিস্তার করতে না পারে।’

তিনি আরও বলেছেন, কচুরিপানা পরিষ্কারে অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারকে এরই মধ্যে নোটিস দেওয়া হয়েছে। দরপত্র অনুযায়ী নদী থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার না করলে এর দায় ঠিকাদারকেই নিতে হবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেছেন, ঠিকাদারকে ঘন কচুরিপানা পরিষ্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ীই তাকে কাজ করতে হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন