মহাখালীতে ফ্ল্যাট দখল ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে থানায় জিডি
রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফ্ল্যাটমালিক নিলুফা ইয়াসমিন (৫২) বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ২Z7PE9, তারিখ: ১২/০৯/২০২৬) দায়ের করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়,ক-৭৭/১ মহাখালী দক্ষিণপাড়া ঠিকানার ফ্ল্যাটটি দলিল মূলে (পাওয়ার অব এটর্নি) মালিক হয়ে ভোগদখলে রয়েছেন নিলুফা ইয়াসমিন। অভিযুক্ত মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে উক্ত ভবনের ৭ম তলায় বি-ইউনিট ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি হয়েছিল।
তবে চুক্তিমোতাবেক জাহিদুল ইসলাম নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট মূল্যের পুরো টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তাকে টাকা ফেরত দিতে চাইলে তিনি নিতে রাজি হননি এবং বাকি টাকাও পরিশোধ করেননি।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা লোক নিয়ে বলপূর্বক তার চুক্তিবদ্ধ ফ্ল্যাট বাদ দিয়ে অপর একটি ফ্ল্যাট এর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত ওই ফ্ল্যাটে থাকা প্রায় ৪ লাখ টাকার বিদ্যুৎ তার, স্যানিটারি জিনিস এবং অন্যান্য আসবাবপত্রসহ মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এ সময় ফ্ল্যাট দখল করে নেওয়ার প্রতিবাদ জানালে এবং বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসতে বললে বিবাদী ও তার লোকজন ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।
দিনের আলোয় সংঘটিত এই অতর্কিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াসমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আইনি সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান ভূক্তভোগী।এ ছাড়াও জোরজবর করে দখল করা ফ্ল্যাটটি উদ্ধারের জন্য ভূক্তভোগী কোর্টে একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে জাহিদুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি একজন মুদি ব্যবসায়ী আমার বিরুদ্ধে যে ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বানোয়াট কথা।
মূলত আমি একজন বৈধ ফ্ল্যাট গ্রহীতা তিনি আমার সাথে ছলচাতুরি করে চুক্তি খেলাপি গ্রহীতা সাজিয়ে আমার চুক্তিবদ্ধ ফ্ল্যাট আমার অজান্তে আমি ছাড়াও একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করেছে।তাঁর সাথে করা চুক্তিতে বিভিন্ন ধাপে টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও সে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে সময় হওয়ার আগেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে আমাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিচ্ছে না।বাকি টাকা তাকে দিতে চাইলে সে গ্রহণ করছে না অসংখ্য সাক্ষী রয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয় লোকজন অবগত হলে লেনদেনের কাগজ পত্রের বৈধতা পর্যালোচনা করে আমাকে আমার ফ্ল্যাটে বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছে।সেই শান্তিপূর্ণভাবে আমি আমার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছি তার ফুটেজ মুঠোফোনে ধারণ করা রয়েছে সেই দিন কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি।তবে ফ্ল্যাট বিক্রেতা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন,তার সাথে যে চুক্তিপত্র হয়েছে সেই চুক্তিপত্রের শর্ত সে লঙ্ঘন করেছে।সে সময় মতো তার টাকা পরিশোধ না করায় আমার নির্মাণ পরিকল্পনার ধাপ সম্পন্ন করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সে বিভিন্ন ধাপে আমাকে ২০,৫০,০০০/-বিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে তাহার সকল প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা আছে।আর সে যে বলেছে,ঐ ফ্ল্যাটে কোন মালামাল ছিল না তারা কোন লুটপাট করেনি সেই লুটপাটের ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে।আপনার কাছে যে ফুটেজ পাঠিয়েছে তা ঘটনার পরে নিরপরাধ সাজার জন্য কৌশল করে ফুটেজ ধারণ করেছে।
সেই দিনের ঘটনার সকল ফুটেজ সময় মতো উপস্থাপন করা হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: