• ঢাকা
  • সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. গণমাধ্যম

প্রবীণ সাংবাদিক মতিয়ার রহমানের ইন্তেকাল, আমতলী প্রেসক্লাবে শোকের ছায়া


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫২ পিএম;
প্রবীণ সাংবাদিক মতিয়ার রহমানের ইন্তেকাল, আমতলী প্রেসক্লাবে শোকের ছায়া

মো: আ: কাইয়ুম, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :


বরগুনার আমতলী প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, প্রবীণ সাংবাদিক ও খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক গাজী মো. মতিয়ার রহমান (প্রায় ৬৫) আর নেই। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর আমতলীতে পৌঁছালে সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মরদেহ আমতলী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আনা হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সেখানে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। এ সময় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে সকাল ১০টায় আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর নিজ বাড়ি গুলিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোজখালী গ্রামের খলিফা বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খলিফা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও সহকর্মীবান্ধব। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গাজী মো. মতিয়ার রহমান একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম গাজী নিজাম উদ্দিনের দুই সন্তানের মধ্যে ছোট ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি আনম আমজাদিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান ছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে আমতলী প্রেসক্লাব, স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং নিজ এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী ও এলাকাবাসী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন