দেবীগঞ্জে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ৩
মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী নারীর দাঁত ভেঙে ফেলা, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নগদ টাকা, বাদাম ও মালামাল লুটসহ ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।ঘটনাটি ঘটেছে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে কুলসুম বেগম রাখেন। পরবর্তীতে তিনি একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার এই ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে প্রতিপক্ষরা আক্রোশ পুষে রাখে। এর জের ধরে গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে আসামি রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা নামের অপর এক আসামি ব্লেড দিয়ে তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার শুরু করলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়।হামলাকারীরা ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করে এবং ঘরে রাখা নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে আসামিরা তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়।
পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এসে তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীর স্বামী দারগালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে তারা এই বর্বরোচিত হামলা চালায়। আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি।"
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। আসামিরা হলেন—রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় জানান, "বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পরপরই বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর কাজ চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: