৫০ হাজার টাকার ঋণ থেকে দৈনিক ৩ হাজার টাকা আয়: নওগাঁর আতাউরের খামার সাফল্যের গল্প
মো: নাফিউর রহমান, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
বড় কোনো পুঁজি বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই এনজিও থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে হাঁস পালন শুরু করেছিলেন নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের হবুর মোড় গ্রামের আতাউর রহমান। নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে হাঁস চরিয়ে ৭ বছরের নিরলস পরিশ্রমে সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি আজ রূপ নিয়েছে একটি লাভজনক ও সফল বাণিজ্যিক খামারে।
শুরুর পথটি একেবারেই সহজ ছিল না। পুঁজির অভাবে প্রথম দিকে প্রাকৃতিকভাবে নদী ও বিলে হাঁস চরিয়েই খামার পরিচালনা করতে হতো তাকে। উৎপাদনে খরচ কম থাকায় এবং সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাড়ায় ধীরে ধীরে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৮৫০টি হাঁস।
বর্তমানে এই খামার থেকেই তার অর্থনৈতিক অবস্থার অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার টাকার ডিম বিক্রি হয় তার। এর বিপরীতে খাবার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রায় ৪ হাজার টাকা ব্যয় বাদ দিলে দৈনিক নিট লাভ থাকে প্রায় ৩ হাজার টাকা। সেই হিসাবে খামারটির মাসিক আয় এখন প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
হাঁস পালনের এই সাফল্যে বদলে গেছে আতাউর রহমানের পুরো জীবনযাত্রা। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে দুই বিঘা কৃষিজমি ক্রয় করেছেন এবং নির্মাণ করেছেন নতুন পাকা ভবন। পাশাপাশি তিন সন্তানের সুশিক্ষাও নিশ্চিত করছেন তিনি। তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন, মেজো ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি খামার পরিচালনায় বাবাকে সহযোগিতা করছেন এবং ছোট ছেলে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
নিজের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘সঠিক নিয়ম মেনে যত্ন নিলে এবং পরিশ্রম করলে হাঁসের খামারে লোকসানের কোনো সুযোগ নেই। এনজিও থেকে নেওয়া সেই ৫০ হাজার টাকাই আজ আমাকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে।’
সামান্য একটি ঋণ নিয়ে শুরু করা আতাউর রহমানের এই উদ্যোগ এখন পুরো এলাকার বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে শূন্য থেকে শুরু করেও সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, আতাউর রহমান তার
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: