• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ আগষ্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

লালমনিরহাটে নৈশ প্রহরী নেন ক্লাস, শিক্ষক সামলান সন্তান 


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৪৪ পিএম;
লালমনিরহাটে নৈশ প্রহরী নেন ক্লাস, শিক্ষক সামলান সন্তান 

খাজা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

 

লালমনিরহাটে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাসে হাজিরা নেন, আর তাদের বদলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান নৈশপ্রহরী। অভিভাবকের প্রতিবাদের মুখে শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল ও পড়ালেখা বন্ধ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। ২০০৬ সালে খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন বাদশা আলম।পরর্বতীতে তিনি ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে কর্মরত ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩ জনই নারী। তারা নিয়মিত নিজ নিজ শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। ফলে তাদের শিশু সামলাতে গিয়ে প্রায়শই শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ থাকে। ওই সময় শিক্ষকদের চেয়ারে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আহসান হাবীব।

​সম্প্রতি নৈশপ্রহরী কর্তৃক পাঠদানের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন কামরুজ্জামান নয়ন মণ্ডল নামে এক অভিভাবক। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অভিভাবকের ছেলে তাওহীদ (প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি, রোল ১৫) নাম হাজিরা খাতা থেকে কেটে বাদ দেওয়া হয় এবং ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে শিশুটির পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, ​স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আরও নানা অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলমের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থেকে তিনি মনমতো স্বজনদের নিয়ে 'পকেট ম্যানেজিং কমিটি' গঠনের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজে পদাধিকারবলে সদস্য-সচিব হয়ে তার আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী রিনা বেগমকে শিক্ষক প্রতিনিধি, বড় ভাই মাহবুবুর রহমান মিঠুকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং নিকট আত্মীয় আবুল কালাম আজাদকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব পাঠান। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী অভিভাবক কামরুজ্জামান নয়ন মণ্ডল বলেন, "শিক্ষকরা ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে নিজের সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নৈশপ্রহরী দিয়ে পাঠদানের প্রতিবাদে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় আমার শিশু ছেলের নাম হাজিরা খাতা থেকে ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। এখন আমার ছেলের পড়ালেখা বন্ধ, স্কুলও যেতে দিচ্ছেন না।"

​অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলম বিষয়টিকে 'মিথ্যা' বলে দাবি করে এ এড়িয়ে যান।

​লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম ফারুক জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন