• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কলাপাড়ায় এনিমেল শেডে প্রথমবারের মতো ফুটল ১৪টি বিষধর গোখরা সাপের বাচ্চা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৪৫ পিএম;
কলাপাড়ায় এনিমেল শেডে প্রথমবারের মতো ফুটল ১৪টি বিষধর গোখরা সাপের বাচ্চা

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এই প্রথমবার একটি এনিমেল শেডে দীর্ঘ দেড় মাস নিবিড় পরিচর্যার পর তীব্র বিষধর পদ্মগোখরার ১৪টি ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে। গত দুই দিনে পর্যায়ক্রমে ডিমগুলো থেকে এসব বাচ্চা ফোটে। ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি আকৃতির বিষধর এই সাপের বাচ্চাগুলোকে দেখতে ওই শেডে ভিড় করছেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’ নামের স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সদস্য মো. কাউসার হৃদয় কলাপাড়া সীমান্তসংলগ্ন আমতলী উপজেলার বান্দ্রা এলাকায় একটি বাড়িতে সাপ উদ্ধারে যান। সেখানে পূর্ণাঙ্গ সাপটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও, একটি নিরাপদ স্থান থেকে তীব্র বিষধর পদ্মগোখরার 
১৪টি ডিম উদ্ধার করেন তিনি।

উদ্ধার করা ডিমগুলো পরবর্তীতে কলাপাড়ায় অবস্থিত পাখিমারা এনিমেল শেডে নিয়ে এসে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর সর্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কার্যক্রম শুরু করা হয়। অবশেষে প্রায় দেড় মাস বা ৪৫ দিন পর সফলভাবে ডিমগুলো থেকে ১৪টি বাচ্চা ফুটে বের হয়।

এ বিষয়ে ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’ সংগঠনের সদস্য বায়েজিদ আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত পদ্মগোখরা সাপের ডিম ফুটতে ৬০ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে। তবে পরিবেশের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে এ সময়ে কিছু তারতম্য হতে পারে। স্ত্রী পদ্মগোখরা সাধারণত একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। 
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ডিম থেকে ফুটেই এই বিষধর সাপের বাচ্চাগুলোর নিজস্ব চলনক্ষমতা এবং প্রাকৃতিকভাবেই বিষ ধারণের ক্ষমতা থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও উপকূলীয় বন বিভাগ, পটুয়াখালীর সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগিরই এই সাপের বাচ্চাগুলোকে বন বিভাগের কোনো নিরাপদ ও সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হবে। বর্তমানে বাচ্চাগুলো আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত মহতী উদ্যোগ। আমাদের প্রাণিকুল তথা সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। ডিম থেকে ফোটা বিষধর সাপের এই বাচ্চাগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে। “অ্যানিমেল লাভার্স” 
সংগঠনকে এমন প্রশংসনীয় কাজের জন্য আমি স্বাগত জানাই। আশা করি, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন