বাউফলে অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
বাউফলে অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন: সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের রেজুলেশন বই গায়েব এবং সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে অন্তত ২০ জন শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজের একটি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ১৯৯৮ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ জুলাই কলেজটির প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন আবুল কালাম আজাদ। প্রথমে উচ্চমাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে স্নাতক শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পায় কলেজটি। ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্নাতক শাখায় মোট ২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা করোনাকালীন সময়ে সরকারিভাবে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতাও পেয়েছিলেন।
২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ অবসরে যাওয়ার পর সহকারী অধ্যাপক আবদুল মালেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট তিনি স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল মালেক তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার একেএম নূরুল হুদার আপন ভাগ্নিজামাতা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন।
সংবাদ সম্মেলনে কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. ইউনুচ মৃধা বলেন, “স্নাতক শাখায় করোনাকালীন ভাতা পাওয়া ২৯ জন শিক্ষকই বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। অথচ হঠাৎ করে লেমন রায় (পদার্থবিজ্ঞান), মো. মাসুদ (ইসলামের ইতিহাস) ও মো. বাহাউদ্দিন (লাইব্রেরিয়ান)—এই তিনজন শিক্ষক কোনো ক্লাস না করেই এবং করোনাকালীন তালিকার বাইরে থেকে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।”
কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০০৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামানকে বাদ দিয়ে, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষর স্ক্যান করে মোছা. নাছিমা নামে অপর একজনকে ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেক গভর্নিং বডি গঠনে চরম স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পরামর্শ তোয়াক্কা না করে নিজেকে রক্ষায় পরপর দুই বছর ধরে এডহক কমিটি করে রেখেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের আমলের নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশন বই গায়েব করে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করা হয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে স্নাতক শাখায় প্রায় ২০ জনকে নিয়োগ দিয়ে অধ্যক্ষ আবদুল মালেক কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক আবদুর রহিম, মো. লিটন ও মো. আসাদুজ্জামানদের নাম এমপিওভুক্তির জন্য পাঠানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ছাড়া কলেজের তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিক্রি করে তার কোনো অর্থ কোষাগারে জমা না দিয়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ আবদুল মালেক বলেন, “সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্যারের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিরাই এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগটি সত্য নয়।”
করোনাকালীন ভাতাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে সবাই এমপিওভুক্ত হবেন।” এছাড়া রেজুলেশন বই হারানোর বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নতুন বই কেনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেক কর্তৃক প্রেরিত এমপিওভুক্ত ও এমপিওবহির্ভূত ৬৮ জন শিক্ষকের তালিকার মধ্যে অন্তত ২০ জনের নামের পাশে ‘ভুয়া নিয়োগ’ বলে লিখিতভাবে চিহ্নিত করেছেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: