মধুখালীতে দু'টি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর
ফরিদপুর জেলাা প্রতিনিধি :
মধুখালীতে দু'টি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
ফরিদপুরের মধুখালীতে গত দুইদিনে একই এলাকার দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) রাতে দুষ্কৃতকারীরা উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সর্বজনীন কালিমন্দিরে শিবের মাথা ভেঙ্গে ফেলে। এর আগে গত সোমবার রাতে বামুন্দি বাজারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পাকা ভিত, পাকা দেয়াল এবং ওপরে চারচালা টিনের ছাউনী দেওয়া শতবর্ষী বামুন্দী সার্বজনীন কালি মন্দিরটি সামনে গ্রিল দিয়ে আটকানো। দুর্বৃত্তরা গ্রিলের ভিতর দিয়ে বাঁশ বা বাঁশ সদৃশ্য কোন বস্তু দিয়ে বাড়ি দিয়ে শিবের মাথা ভেঙ্গে ফেলতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সকালে মন্দিরের পূজারি বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলার দৃশ্যটি দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দির কমিটির সভাপতিসহ এলাকাবাসীকে জানান।
এ ছাড়াও গত সোমবার রাতে বামুন্দি (বিল আড়ালিয়া) বাজারে অবস্থিত কালী মান্দিরে দুর্বৃত্তরা হামলা করে কালি প্রতিমার মাথা ভেঙ্গে ফেলে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। মন্দিরটি বাজারের মধ্যে অবস্থিত। মন্দিরের তিন দিকে দেয়াল ও ওপরে টিনের ছাদ থাকলেও সামনের অংশটি খোলা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম ঘটনার দুই দিন পরে ওই বাজার থেকে অর্ধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বামুন্দী সর্বজনীন কালিমন্দিরে দ্বিতীয়বারের মত শিব প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনায় পুলিশ কঠোর ভূমিকা পালন করলে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটতো না।
বামুন্দী সর্বজনীন কালিমন্দিরের সভাপতি রঞ্জন সরকার সংবাদ কর্মিদের বলেন, 'এ ঘটনার পর থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।'
বামুন্দি বাজার মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাজারের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার জানা নেই। তাই কাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো?’
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায় খবরের কাগজকে বলেন, বাজারের মন্দিরের ঘটনায় এখনও মামলা করার সুযোগ আছে। পাশাপাশি বামুন্দি সার্বজনীন মন্দিরে কালি প্রতিমা ভাঙচুরের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: